সিংগাইর(মানিকগঞ্জ) প্রতিনিধি: পূর্ব শত্রুতার জেরে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে পিতা-পুত্রদ্বয়দের কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাদের সাথে থাকা স্বর্ণ ও টাকা ছিনতাইয়ের অভিযোগ উঠেছে আব্দুর রশিদ (৫০) গংদের বিরুদ্ধে। শুক্রবার (২১ফেব্রুয়ারি) উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের চারিগ্রাম বাজারে আমজাদ সেনেটারীর দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন, চারিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিণ জাইল্যা গ্রামের আব্দুল লতিফ (৬০) ও তার ৩ পুত্র আবুল কাশেম (৩৫), ওয়াসিম (২৭) ও জসীম (২১)।
এ ঘটনায় আব্দুল লতিফের স্ত্রী আকলিমা বেগম ১০ জনের নাম উল্লেখ করে ও ১০-১২ জনকে অজ্ঞাত রেখে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তরা হলেন-উপজেলার চারিগ্রাম ইউনিয়নের দক্ষিন জাইল্যা গ্রামের মৃত শেখ জমসের কুটির ছেলে আব্দুর রশিদ (৫০),একই এলাকার মৃত.আশোক আলী বেপারী ছেলে আব্দুল মান্নান (৫২),মৃত.আবেদ আলীর ছেলে আমজাদ (৪৮),তার ভাই আতোয়ার (৩৮),মৃত হান্নান মাস্টারের ছেলে রায়হান (৩২),শফিকুলের ছেলে বক্কর (২৫), মৃত ওমর আলীর ছেলে আব্দুল লতিফ (৬০), মৃত আশোক আলীর ছেলে পান্নান (৪৫),মো.লুৎফর রহমানের ছেলে রিফাত (২১), মো.আমজাদের ছেলে মাহফুজ (২২)।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়, প্রতিদিনের ন্যায় জুয়েলারি ব্যবসায়ি আবুল কাশেম চারিগ্রাম বাজারে “আল মক্কা জুয়েলার্স” খোলার জন্য বাড়ি থেকে বের হন। চারিগ্রাম বাজারে আমজাদ সেনেটারীর দোকানের সামনে পৌঁছালে উৎপেতে থাকা আব্দুর রশিদ গং তাকে গতিরোধ করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। বাক-বিতন্ডায় এক পর্যায়ে অভিযুক্তরা তার মাথা লক্ষ্য করে ধারালো দা দিয়ে কোপ মারে। এসময় আবুল কাশেমের ডাক চিৎকারে তার দুই ভাই ওয়াসিম, জসীম ও পিতা আব্দুল লতিফ তাকে বাঁচাতে এলে তাদেরও ধারালো দা দিয়ে মাথায় কোপ ও লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করে।
এতে বাবাসহ তিন ভাই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটে পরে। এসময় তাদের কাছে থাকা ব্যবসায়িক ৫ লক্ষ টাকা ও ২০ ভরি পাকা স্বর্ন আনুমানিক ২৮ লক্ষ টাকার মূল্য ব্যাগসহ ছিনিয়ে নেয়। পরে তাদের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা ছিটকে পরে।
এসময় স্থানীয়রা রক্তাক্ত অবস্থায় তাদেরকে সিংগাইর উপজেলা স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।এ ঘটনার ভুক্তভোগীরা সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত আব্দুর রশিদ তার নামে আনীত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,আমি হলো শালিসদার। আবুল কাসেম ও আমজাদ গংদের সাথে সকালে দু,দফা মারামারি হয়। আমি ওদের মিমাংসা করে দেয়ার জন্য বসেছিলাম। জবানবন্দি নেয়ার সময় পুনরায় ওরা উত্তেজিত হয়ে মারামারির ঘটনা ঘটায়।
এবিষয়ে সিংগাইর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, অভিযোগটি দেখেছি তদন্ত পূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
