টঙ্গীবাড়ীতে প্রবাসীর বাড়িতে দুর্ধর্ষ চুরি, ১৯ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ

টঙ্গীবাড়ী থেকে ফিরুজ আলম বিপ্লব : মুন্সীগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলার কামারখাড়া গ্রামে এক দুবাই প্রবাসীর বাড়ীতে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। চোরেরা বাড়ীতে থাকা নারীদের অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের শরীরে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টা থেকে ৩টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন দুবাই প্রবাসী মহিউদ্দিন খান।
প্রবাসী মহিউদ্দিন খান মুঠোফোনে জানান, ঘটনার সময় ৩ থেকে ৪ জন চোর প্রথমে বাড়ির প্রবেশপথে থাকা আইপি ক্যামেরার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে। পরে ক্যামেরার মেমোরি কার্ড খুলে নিয়ে তারা ঘরে প্রবেশ করে। মুখে গামছা পেঁচিয়ে ঘরে ঢুকে আলমারি থেকে নগদ ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা, স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, আংটি ও রুপার নূপুরসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যায়। সব মিলিয়ে প্রায় ১৯ লাখ টাকার মালামাল চুরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। এ ঘটনায় মহিউদ্দিন খানের বড় ভাই মোস্তফা খান বৃহস্পতিবার দুপুরে টঙ্গিবাড়ী থানায় একটি অভিযোগ করেন । টঙ্গিবাড়ী থানা ওসি মোহাম্মদ শামিম আহমেদ জানান, থানায় একটি অভিযোগ করা হয়েছে । তদন্ত চলমান রয়েছে । তিনি আরও জানান, এ সময় চোরেরা তাঁর মা, স্ত্রী ও বড় ভাইয়ের স্ত্রীকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাঁদের কাছে থাকা স্বর্ণালংকারও নিয়ে যায়। তিনি দুবাইয়ে থাকেন এবং তাঁর বড় ভাই ঢাকায় ব্যবসা করেন। বাড়িতে কোনো পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে চোরেরা এ ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।
মহিউদ্দিন খান বলেন, “অনেক কষ্ট করে উপার্জন করা টাকা ও স্বর্ণালংকার চোরেরা নিয়ে গেছে। আমি প্রশাসনের কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি।”
বাড়িতে থাকা মহিউদ্দিন খানের মা হাওয়া বেগম বলেন, “চোরেরা মুখে গামছা পেঁচিয়ে ঘরে ঢুকেছিল, তাই তাদের চিনতে পারিনি। আমার গলার চেইন খুলতে দেরি হওয়ায় তারা আমাকে অস্ত্রের ভয় দেখায়। চিৎকার-চেঁচামেচি করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। পরে ঘরের নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চলে যায়।” ঘটনার খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সকালে মহিউদ্দিন খানের বড় ভাই মোস্তফা খান ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরে তিনি এ ঘটনায় টঙ্গীবাড়ী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এ বিষয়ে টঙ্গীবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শামীম আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। চোর শনাক্তের চেষ্টা চলছে।” ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং লুট হওয়া মালামাল উদ্ধারের দাবি জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *