আজ শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) বিকেল ৩টায়, দোহার উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, দোহার উপজেলা ও পৌরসভা মহিলা বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘শিক্ষকদের জীবনমান ও পেশাগত মর্যাদা: বর্তমান বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। দোহার উপজেলা মহিলা বিভাগের সহ-সেক্রেটারি ও পেশাজীবী বিভাগের পরিচালক প্রভাষক আফরোজা বানুর সভাপতিত্বে এবং মাসুমা বিল্লাহ এর সঞ্চালনায় বিশ্ব শিক্ষক দিবসের আলোচনা সভায় দোহার উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াত করেন ফারহানা ইসলাম আরিফা। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন প্রভাষক আফরোজা বানু।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা মহিলা বিভাগের সহকারী সেক্রেটারি ও রহমতুল্লাহ মডেল হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষিকা লতিফা খাতুন।
‘আলোকিত সমাজ গঠনে আদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা’ বিষয়ে বক্তব্যে তিনি বলেন, একজন আদর্শ শিক্ষক কেবল শিক্ষার্থীকে পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের জন্য প্রস্তুত করেন না, বরং তাকে সৎ, দায়িত্বশীল ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
তিনি শিক্ষকদের আদর্শ, নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি আলোকিত, সুন্দর ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষকদের নিজেদের জীবনেও সততা, নৈতিকতা ও আদর্শের চর্চা অপরিহার্য। শিক্ষকেরা শুধু পাঠ্যবইয়ের জ্ঞান দেন না, তাঁরা শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও চারিত্রিক বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা জেলা মহিলা বিভাগের মানবসম্পদ বিভাগের সেক্রেটারি ও গালিমপুর ইছামতী কলেজের সহকারী শিক্ষিকা মুরশিদা সুলতানা শিক্ষক দিবসের প্রত্যাশা ও করণীয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি শিক্ষকদের জীবনমান ও পেশাগত মর্যাদার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “যাঁরা আমাদের জীবনকে সুন্দর করে গড়ে তুলতে সারা জীবন ব্যয় করেন, সেই মানুষ গড়ার কারিগর আমাদের সম্মানিত শিক্ষকদের জীবন কতটা সুন্দর? তাঁরা কতটা নিরাপদ, কতটা সম্মানিত? সমাজ ও রাষ্ট্র তাঁদের প্রতি কতটা দায়িত্বশীল?”
তিনি আরও বলেন, “রাষ্ট্র যদি শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিতে চায়, তাহলে সেই অগ্রাধিকারের প্রতিফলন শিক্ষকদের জীবনমান ও পেশাগত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও থাকতে হবে।”
‘নৈতিকতা, সততা ও আদর্শ সমাজ গঠনে শিক্ষকদের ভূমিকা’ বিষয়ে আলোচনায় ফারহানা ইসলাম আরিফা শিক্ষার্থীদের মধ্যে সততা, ন্যায়বোধ, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দায়িত্বের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শিক্ষার সঙ্গে নৈতিকতার সমন্বয় না ঘটলে প্রকৃত অর্থে আদর্শ মানুষ গড়ে তোলা সম্ভব নয়। একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ বিনির্মাণে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষার প্রসার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সভায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন পদ্মা মহাবিদ্যালয়ের প্রভাষক রাজিয়া সুলতানা।
শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন জয়পাড়া মহাবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিনা। তিনি শিক্ষকদের প্রতি শিক্ষার্থীদের শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় সমাপনী বক্তব্য দেন দোহার উপজেলা মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি ও জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক পারভিন আক্তার।
সভায় বক্তারা শিক্ষকদের সামাজিক ও পেশাগত মর্যাদা রক্ষা, জীবনমান উন্নয়ন, নৈতিক শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে হামদে ইলাহী পরিবেশন করেন মায়মুনা আক্তার। বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে ইসলামী সংগীত পরিবেশন করেন সাবরীনা এ্যানী এবং শিক্ষকদের সম্মানে কবিতা আবৃত্তি করেন মাসুমা বিল্লাহ।
