সিংগাইরে কাঁচা মরিচের জাস

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস,সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি: ঈদ শেষে হঠাৎ করে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে হাট-বাজারে কাঁচামরিচের দাম আকাশচুম্বী হয়ে পড়েছে। গত তিন চারদিন আগে বাজারে যে কাঁচা মরিচ বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি ২শ থেকে ৩শ টাকায়। ঈদের আগের দিন ৪শ টাকায় বিক্রি হলেও সেটি একলাফে বেড়ে ৬শ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। এতে করে বিপাকে পড়েছে নিম্ন আয়ের মানুষেরা।
শনিবার (১ জুলাই) সকালে উপজেলার সিংগাইর পৌর বাজারসহ বিভিন্ন হাট-বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতিকেজি কাঁচা মরিচ ৬ শ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মানুষ উপায়ান্ত না পেয়ে পরিমানের চেয়েও কম ক্রয় করছেন।

এছাড়া কেউ মুল্য বেশী হওয়ায় ২৫০গ্রাম মরিচ ১৫০ টাকা দামে ক্রয় করছে। এ সময় দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের সঙ্গে তর্ক-বির্তক করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে,বর্ষা মৌসুমে কাঁচা মরিচ আবাদ করা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। সাধারণত এ সময়টা আবহাওয়ার বিরূপ আচরণ সৃষ্টি হয়।

গত সপ্তাহের আগ পর্যন্ত মরিচের উৎপাদন ভালোই ছিল। হঠাৎ করে পানি বৃদ্ধিসহ খড়া ও বৃষ্টির কারনে মরিচ ক্ষেত নস্ট হওয়ায় মরিচের আমদানি কম। এছাড়াও বাহির থেকে মরিচ না আসায় এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীরা দাম বাড়িয়ে দেয়। গত দুই সপ্তাহ আগে যার ফলে বাজারে চাহিদা কম থাকায় ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে কাঁচা মরিচ বিক্রি করছিল। কিন্তু সম্প্রতি অতি খরা ও মাঝে মধ্যে অতিবর্ষণ হচ্ছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মরিচের গাছ শুকিয়ে কমে যাচ্ছে উৎপাদন ক্ষমতা। যার কারণে হাটবাজারে কাঁচা মরিচের আমদানি কম থাকায় এর চাহিদা বেড়েছে অনেকটাই। ফলে মরিচের কেজির বদলে গ্রামে বিক্রি হচ্ছে। ২৫০ গ্রাম মরিচ ১৫০ টায় বিক্রি হচ্ছে। প্রতি কেজি মরিচের দাম এখন ৬শ টাকা।
সিংগাইর পৌর বাজারে আসা আমেনা বেগম জানান, মরিচ কিনতে গিয়ে দেখি ৬ শ টাকা কেজি,দাম অনেক বেশি তাই কিনতে পারলাম না। ব্যবসায়ী পিয়ার আলী বলেন, আড়তে বেশি দাম দিয়ে কাঁচা মরিচ কিনতে হচ্ছে। তাছাড়া ঈদে মোকাম বন্ধ মরিচ পঁচে যায়, এ জন্য খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়েছে।
বাজারে মরিচ কিনতে আসা আতাউর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে কমেছে আয়-রোজগার। অন্যদিকে কাঁচা মরিচসহ বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *