আরিফুর রহমান সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১২ই রবিউল আউয়াল পবিত্র ঈদ – ই – মিলাদুন্নবী (সাঃ) উদযাপন উপলক্ষে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর জীবন, কর্ম ও শিক্ষার উপর আলোচনা ও মিলাদ মাহফিল আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার মডেল মসজিদের মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার ইসলামী ফাউন্ডেশন এর আয়োজনে অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন উপজেলার সভাপতি ও নির্বাহী কর্মকর্তা সাব্বির আহমেদ। উপজেলা মডেল মসজিদের পেশ ইমাম হাঃ মাওঃ হাবিবুর রহমানের সঞ্চালনায় সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিরাজদিখান থানার অফিসার ইনচার্জ খন্দকার হাফিজুর রহমান, ইসলামিক ফাউণ্ডেশনের সিরাজদিখান উপজেলার ফিল্ড সুপার ভাইজার কামালুদ্দিন, মসজিদ ভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রমের কেয়ার টেকার মোঃ ফাইজুর রহমান,মোঃ নেওয়াজ সহ বেশ কয়েকজন শিক্ষক এবং এলাকার মুরুব্বী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এসময় পবিত্র ঈদ – ই – মিলাদুন্নবী (সঃ) উদযাপন উপলক্ষে বিশেষ আমলের উপর ভিত্তি করে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভালোবাসায় তাঁর সুন্নাহ বা আদর্শ পালনই রবিউল আউয়াল মাসের অন্যতম শিক্ষা বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমলও রয়েছে। সেই আমল গুলো আমাদের সকলের পালন করা একান্ত প্রয়োজন। হাদীসের আলোকে দিকনির্দেশনায় রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বেলাদাত তথা জন্ম উপলক্ষে বছরব্যাপী নিয়মিত আমল রয়েছে। উক্ত আমলের বিষয়টি সুস্পষ্ট করেছেন স্বয়ং বিশ্বনবি (সাঃ)। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আল্লাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার দিন জন্ম গ্রহণ করেছেন। আবার এ দিনেই তিনি ইন্তেকাল করেন। তবে তিনি তাঁর জন্মদিন উপলক্ষ্যে নিয়মিত আমল হিসেবে প্রতি সোমবার রোজা রাখতেন। হাদিসে এসেছে-হজরত আবু কাতাদাহ আনসারি (রাঃ) বর্ণনা করেন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ‘সোমবার’ রোজার বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,এ দিন (সোমবার) আমি জন্মগ্রহণ করেছি।
ওই দিনই আমি নবুয়ত লাভ করেছি বা আমার ওপর ওহি অবতীর্ণ হয়েছে । (মুসলিম) রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সোমবারের রোজার রাখার বিষয়টি অন্য বর্ণনায় এভাবে এসেছে-হজরত আয়েশা (রাঃ) বলেন,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতেন। (তিরমিজি ও নাসাঈ) সোমবার রোজা রাখার সম্পর্কে সাহাবায়ে কেরাম জিজ্ঞাসা করলেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ!
আপনি সোমবার রোজা রাখেন কেন? তিনি বললেন,এই দিনে আমার জন্ম হয়েছে। তাই এই দিন রোজা রাখি। আজও মদিনা শরিফে সোমবারের রোজা রাখার আমলটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে। তাই প্রতি সোমবার মসজিদে নববিতে ইফতারের বিশেষ আয়োজন করা হয়, যা স্থানীয় জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে আয়োজন করে থাকেন। জরুরি ভাবে মনে রাখা যে,রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন উপলক্ষ্যে প্রতি সোমবার রোজা রাখা বেদাআত নয় বরং তা প্রিয় নবির নির্দেশ ও সুন্নাত আমল। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ দিনে রোজা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। তবে অন্য কারো জন্মদিন উপলক্ষে রোজা পালন করা যাবে না। আর যদি কেউ তার জন্মের দিনে রোজা পালন করে তবে তাহা বেদাআত হবে নবীজীর ক্ষেত্রে তা নয়। সুতরাং বিশ্বনবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জন্মদিন উপলক্ষ্যে বছরজুড়ে প্রতি সোমবার রোজা পালন সুন্নাত ইবাদত।
এ রোজা রাখায় কোনো বাধা নেই। তাইতো উম্মতে মুহাম্মাদি তাঁর ভালোবাসায় প্রতি সোমবার রোজা পালন করে থাকেন। আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে প্রিয় নবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাসের আদর্শের অনুসরণ ও অনুকরণ করার তাওফিক দান করুন। সুন্নাতি আমলে জীবন রাঙানোর তাওফিক দান করুন আমিন। রাসুলুল্লাহ ‘সৃষ্টিকর্তার বার্তাবাহক’ মুহাম্মাদের নাম ও উপাধি তাহার। পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সভার সমাপ্তি হয়।
