কেরানীগঞ্জ(ঢাকা)প্রতিনিধি : ১০ট্রাক অস্ত্র মামলায় দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ দুপুর ২টায় কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর । কারাফটকেই ঢাকা মহানগরের স্বাগত জানান বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, পরিবারের সদস্য ও তার নির্বাচনি এলাকা নেত্রকোনা-৪ আসন থেকে আাসা হাজার হাজার নেতাকর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানায়। এসময় কারা ফটোকের সামনে উপস্থিত হাজার হাজার বিএনপি নেতাকর্মীদের মুহুর মুহুর স্লোগগানে কারাগারের সামনে ও আশেপাশের পরিবেশ মুখরিত হয়ে ওঠে। কেরানীগঞ্জে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুরাইয়া আক্তার জানান, হাইকোর্টের রায় চট্টগ্রাম আদালতে যাওয়ার পর জামিনের আদেশ দুপুরের আগেই কেরানীগঞ্জে কেন্দ্রীয় কারাগারে এসে পৌঁছায়। তার মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ঠিকঠাকসহ অন্যান্য আনুষ্টিকতা শেষে দুপুর দুই টায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে মুক্তি দেওয়া হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় অস্ত্র আইনে করা পৃথক মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের দায় থেকে খালাস পান লুৎফুজ্জামান বাবর।ঐদিন বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।
এ রায়ের মাধ্যমে বাবর তার বিরুদ্ধে করা সব মামলা থেকে খালাস পান। ফলে তার কারামুক্তিতে আর কোনো বাধা নেই বলেছিল তারা আইনজীবী শিশির মনির। নেত্রকোনা-৪ আসনের (মদন-মোহনগঞ্জ-খালিয়াজুরী) বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের মুক্তির খবরে শত শত বিএনপি নেতাকর্মী, স্বজন ও এলাকার মানুষেরা গাড়ি বহর নিয়ে সকাল সকালেই কারা ফটোকের উপস্থিত হয়। দুপুরে লুৎফুজ্জামান বাবু কারাগার থেকে বের হয়ে আসলে সবাই আনন্দ উল্লাসে ফেটে পড়েন। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কারাগার থেকে বের হয়ে আসার পর ঢাকা -মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরের মুক্তির মধ্য দিয়ে ভাটি বাংলা তথা বাংলাদেশের গণমানুষের আকাঙ্ক্ষা পূরণের পথ প্রশস্ত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন তার স্ত্রী তাহমিনা জামান শ্রাবনী।
তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘দীর্ঘ ১৭ বছর পর আদালতের রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশের জনগণ তার মুক্তির জন্য অধীর আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছিল । তাদের সেই অপেক্ষা ও আগ্রহের অবসান হল হলো তার মুক্তির মধ্য দিয়ে। উল্লেখ্য ২০০৭ সালের ২৮ মে আটক হন লুৎফুজ্জামান বাবর। এরপর বিভিন্ন মামলায় তার দণ্ড হয়। এর মধ্যে দুটি মামলায় তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ হয় এবং একটিতে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। তবে গত ৫ আগস্ট বৈষম্য বিরোধী ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এসব মামলার আপিল শুনানি শেষে তিনি এসব মামলায় একে একে খালাস পান। এর মধ্যে গত ২৩ অক্টোবর দুর্নীতির মামলায় ৮ বছরের দণ্ড থেকে এবং ১ ডিসেম্বর ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে খালাস পান তিনি।
