দোহারে বিদ্যুৎ বিলে ৬৫ হাজার গ্রাহকের ভোগান্তি: নেপথ্যে কী

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহার ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২-এর আওতাধীন দোহার জোনাল অফিসে প্রায় ৬৫ হাজার গ্রাহক দীর্ঘদিন ধরে ভুতুুড়ে বিদ্যুৎ বিলের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। স্বাভাবিক বিদ্যুৎ ব্যবহার স্বত্বে  ও অনেক গ্রাহকের কাছে কয়েকগুণ বেশি বিল পৌঁছানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের দাবি, মাঠপর্যায়ে প্রকৃত মিটার রিডিং সংগ্রহ না করে অনুমাননির্ভর ও অতিরিক্ত বিল তৈরি করায় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাহকসেবার পরিবর্তে কিছু কর্মকর্তা নিজেদের প্রশাসনিক সাফল্য ও পদোন্নতির লক্ষ্যে রাজস্ব আদায়ের পরিসংখ্যান বাড়াতে ব্যস্ত থাকায় এ সংকট দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। ফলে প্রকৃত ইউনিট ব্যবহারের সঙ্গে বিলের কোনো সামঞ্জস্য থাকছে না। অনেকেই স্বাভাবিকের দ্বিগুণ, তিনগুণ এমনকি চারগুণ পর্যন্ত বেশি বিল পেয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন।
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের ভাষ্য, অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে অভিযোগ জানাতে অফিসে গেলেও কাক্সিক্ষত সমাধান মিলছে না। অনেক ক্ষেত্রে বারবার অফিসে গিয়েও হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ উভয়েরই অপচয় হচ্ছে।
দোহার জোনাল অফিসে সেবা নিতে আসা সাকিব হোসেন, জাকির শিকদার, আব্দুল খালেকসহ একাধিক গ্রাহক জানান, বিদ্যুৎ বিলের কোনো নির্দিষ্ট হিসাব-নিকাশ নেই। অফিসের ইচ্ছামতো বিল তৈরি করা হচ্ছে। গত দুই মাস ধরে অনেক গ্রাহকের স্বাভাবিক বিলের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ বেশি বিল এসেছে।
তারা জানান, যেসব গ্রাহকের মাসিক বিল সাধারণত ৭০০ থেকে ৮০০ টাকার মধ্যে থাকত, তাদের কারও কারও কাছে এবার ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকার বিল এসেছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর মারাত্মক আর্থিক চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
শুধু আবাসিক গ্রাহকই নন, বাণিজ্যিক গ্রাহকরাও একই ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, দোকানপাটের বিদ্যুৎ বিল স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যবসা পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিলিং সেকশনের দায়িত্বে থাকা লোকজনের কাছে অতিরিক্ত বিলের বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, বিল প্রস্তুতের কাজ আমাদের সেকশন থেকেই করা হয়। তবে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানতে ডিজিএম স্যারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। মাঠপর্যায়ের মিটার রিডারদের তথ্য অনুযায়ী বিল করা হয় কি না এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাঠের তথ্য অনুযায়ীও বিল করা হয়।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ২ দোহার জোনাল অফিসের এজিএম বিজয় কুমার এর কাছে মাঠপর্যায়ের তথ্য ও অফিসে প্রস্তুতকৃত বিলের মধ্যে কোনো গরমিল রয়েছে কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, বিলিংয়ের সম্পূর্ণ দায়িত্ব বিলিং সেকশনের। এ বিষয়ে আমাদের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
এ বিষয়ে ঢাকা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি-২ দোহার শাখার ডিজিএম মো. বাদল মিয়া বলেন আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, গরম বেশি হওয়ার কারণে গ্রাহকেরা বিদ্যুৎ খরচ বেশি করেছেন এ কারণে হয়তো বিল বেশি আসছে এবং অতিরিক্ত লোডসেডিং এর কারনে বিদ্যুত বিল বেশি হওয়ার কারণ হতে পারে। দোহার নবাবগঞ্জে বিদুৎতের চাহিদা ২৫ মেগাওয়াট এর বিপরীতে পাচ্ছি ১২/১৪/১৬ মেগাওয়াট। ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকার কারণে বেশি বেশি লোডসেডিং হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *