নিজস্ব প্রতিবেদক : দোহারের মুকসুদপুর ইউনিয়নের দুবলি গ্রামে জয়নব আক্তার (১২) নামে তৃতীয় শ্রেণির স্কুল ছাত্রীর বাল্যবিবাহের ঘটনা ঘটেছে। জয়নব আক্তার দুবলি গ্রামের জয়নাল শেখের দ্বিতীয় সন্তান। বাল্যবিবাহের কথা জানতে পারে স্থানীয় এক কলেজ ছাত্র। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক উপস্থিত হয় উপজেলা প্রশাসন। কিন্তু প্রশাসনের অভিযানের আশঙ্কা বুঝতে পেরে বিয়ে পড়ানোর আগেই কনেকে বিদায় দেয় কনের বাবা জয়নাল শেখ এবং বাল্যবিবাহে উৎসাহিত করা কনের চাচা ইদ্রীস শেখ ও মামা সুতারপাড়ার আক্তার ড্রাইভার। দোহার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রের নেতৃত্বে অভিযানে অংশ নেন দোহার থানার এসআইসহ চার পুলিশ কর্মকর্তা। অভিযানে উদ্দেশ্য কনের বাড়িতে যান প্রশাসন। সেখানে গিয়ে তারা বর ও কনেকে খুঁজে না পেয়ে উপস্থিত এলাকাবাসীর নিকট থেকে জানতে পারেন, বরযাত্রীসহ কন্যাকে দুপুরের পরপরই বিদায় দেওয়া হয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হন প্রশাসন। তারা কনের বাবা-মাকেও খুঁজে পাননি। বিয়ে বাড়িতে অতিথি মেহমানদের কাছে মেয়ের জন্ম নিবন্ধন পত্র চাইলে সম্প্রতি বানানো একটি ভূয়া জন্ম নিবন্ধন পত্র নিয়ে এক অতিথি এগিয়ে আসেন। এসে তার পরিচয় দিয়ে বলেন, ‘আমার বাড়ি সুতারপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে। স্যার, আপনারা ঝামেলা কইরেন না। আল্লাহর’রস্তে মাফ কইরা দেন আমাগো। এ বিয়েতে মূল উৎসাহদাতা ও সহায়তাকারী আক্তার ড্রাইভার। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো মামলা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘মেয়েটি আসলেই বাল্যবিবাহের শিকার। আমরা চেষ্টা করেছিলাম বিয়েটা রোধ করতে। তার আগেই বিদায় হয়ে গেছে। এটা একটি অন্যায় কাজ। এর জন্য দায়ী পক্ষসহ সুতারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সচিবকে ভূয়া জন্ম নিবন্ধন তৈরী করার অপরাধে আইনের আওতায় আনা হবে।’
