গরু আছে ক্রেতা নেই দোহারের হাটগুলোতে

ইমরান খান রাজ: আর মাত্র ২ দিন বাকি আছে, তার পরেই পালিত হবে পবিত্র ঈদুল আজহা। ঈদুল আজহা উপলক্ষে ইতোমধ্যে দোহারের বেশ কয়েকটি স্থানে কোরবানির পশুর হাট উদ্বোধন করা হলেও তেমন ক্রেতা দেখা যাচ্ছেনা এসব হাটে। উপজেলার জয়পাড়া বড় মাঠের হাট, মেঘুলা বাজারের হাট ও মুকসুদপুর ডাকবাংলো এলাকার পশুর হাটে বিভিন্ন এলাকার খামারি ও পাইকাররা বিক্রির উদ্দ্যেশ্যে তাদের গবাদিপশু হাটে তুললেও এখনো আশানুরূপভাবে বিক্রি হচ্ছে না।

মুকসুদপুর ডাকবাংলো এলাকার পশুর হাটের খামারি মো. রনি জানায়, গত ৩দিন ধরে এই হাটে রয়েছি। বিক্রি খুব একটা ভাল না। হাটে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম। আর যারা আসছে তারা আশানুরূপ দাম বলছে না ক্রয়ের ক্ষেত্রে। তিনি আরো জানায়, তার সাথে এইবার কুষ্টিয়া থেকে গরু বিক্রি করতে আরো ৬ জন খামারি এসেছে। সবার গরুগুলো ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করতে না পারলে ঋণের টাকা পরিশোধ করাটাই কষ্টসাধ্য হয়ে ওঠবে।

নারিশা গ্রামের গবাদিপশু খামারি মো. হানিফ জানায়, এবছর কোরবানি ঈদে বিক্রির লক্ষ্যে ২টি ষাঁড় গরু লালনপালন ও মোটাতাজা করে। দুইটি গরুই ১লাখ টাকার ওপরে দাম চাওয়া হলেও সেগুলোর আশানুরূপ দাম পাওয়া যাচ্ছে না। এবছর গরু দুইটা বিক্রি করতে না পারলে আংশিক লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে তাকে।

দোহারের বিভিন্ন পশুর হাটে সরেজমিনে দেখা যায়, করোনাভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে এই বছর হাটে ক্রেতার সংখ্যা খুবই কম গত বছরের তুলনায়। আর এতে হাটের বিক্রিও কম হচ্ছে। আবার অনেকে কম দামে গরু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছে। উপজেলার পশুর হাটগুলোতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা গেলেও তা কার্যকর করা হচ্ছে না কিছু উদাসীন মানুষের কারণে। হাট ঘুরে দেখা যায় শতকরা ৭০ ভাগ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও বাকি ৩০ ভাগ মাস্ক ছাড়াই ঘুরছে হাটগুলোতে৷ আবার অনেক অভিভাবক তাদের ছোট ছোট বাচ্চাদের ঘুরতে নিয়ে যাচ্ছে হাটে। আর এতে শিশুদের করোনা পজিটিভ হওয়ার ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *