নিজস্ব প্রতিনিধি : মহান মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বাংলাদেশ কৃষকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি ঢাকা কলেজ ছাত্র সংসদের সাবেক ভিপি আজিজুর রহমান ফকুর (একজন মুক্তিযোদ্ধার আত্মজীবনী ) নিয়ে রচিত ‘আমার জীবন আমার সংগ্রাম’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে নবাবগঞ্জ উপজেলার সভা কক্ষে বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডীন ড. আবু মো. দেলুয়ার হোসেন। আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এইচ এম সালাউদ্দিন মনজু, নবাবগঞ্জ থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম শেখ।
নবাবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমেদ ঝিলুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মাসুদ খান মজলিস, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক হুমায়ন কবির, শিক্ষা ও মানববিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান খান সোহেল, আওয়ামী লীগ নেতা বাবু স্বপন কুমার বসাক প্রমুখ।
মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে এসময় বক্তারা বলেন, আজিজুর রহমান ফকুর জীবনী বলে শেষ করা যাবে না। তিনি ছিলেন একজন কর্মী প্রেমিক। তার সমর্থকরা কেমন আছে, সর্বদা তিনি খোঁজ রাখতেন। মানুষের প্রতি তার ভালবাসা ছিলো প্রখর। মা বকবে জেনে রাতের আঁধারে নিজেদের ঘর থেকে ধান বের করে তিনি মানুষের মাঝে সেই সব ধান বিতরণ করেছেন।
শৈশবের স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে বক্তারা আরও বলেন, সবুজ শ্যামল ও বিলকে কেন্দ্র করে তিনি বেড়ে উঠেছেন। কৃষকদের প্রতি ছিলো তার গভীর ভালবাসা। তিনি আড়িয়াল বিলের ৮৫ হাজার একক জমি পানির অভাবে চাষ করতে না পাড়ায় তিনি খাল খননের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এছাড়া ২০টি শ্যালো টিউবওয়েলও স্থাপন করেন। নবাবগঞ্জ উপজেলা রাজনীতিতে তার অনেক অবদান রয়েছে। আজকে যারা নিজেকে বড় বড় নেতা পরিচয় দেন এই নেতাদের তিনি নিজ হাতে তৈরী করেছেন। তিনি ছিলেন একজন মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধে তার অবদান অপরিসীম। তিনি তার বাড়িতে কয়েক শতাধিক মুক্তিযোদ্ধাদের আশ্রয় দিয়েছেন। সেখান থেকে তিনি তার নেতৃত্বে মুক্তিদ্ধাদের ট্রেনিং করার জন্য ভারতের আগর তলায় পাঠিয়েছেন। এছাড়া ৫২’র ভাষা আন্দোলন, ৫৪’র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ৫৮’র সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন, ৬২’র হামিদুর রহমান শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বিরোধী আন্দোলন, ৬৪’র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বিরোধী আন্দোলন, ৬৬’র ছয় দফা আন্দোলন, ৬৯’র গণআন্দোলনসহ ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধে ছিলো তার অনেক অবদান।
সামাজিক উন্নয়নে তার ভূমিকা ছিলো বলা বাহুল্য। তিনি শিক্ষার আলো জ্বালাতে এবং শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন ধরনের কার্যক্রম গ্রহন করেছেন। তিনি প্রায় ১২ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে সরাসরি যুক্ত রয়েছেন।
বক্তারা বলেন, আজিজুর রহমান ফকু ছিলেন একজন সৎ ব্যক্তিত্ব। তিনি সর্বদা সাদাসিধা ভাবে জীবনযাপন করেন। তিনি মুখ দিয়ে কখনো খারাপ কথা বলেননি। তিনি মানুষের জীবন মান উন্নয়নে সর্বদা নিজেকে নিয়োজিত রেখেন। আমরা সকলেই তার সুস্থতা ও দীর্ঘ হায়াত কামনা করছি।
জানা যায়, আজিজুর রহমান ফকু ১৯৩৭ সালে নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলা ইউনিয়নের চরমধুরিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম এসএম চৌধুরী, মাতা ছিলেন উম্মতে রসুল। ঐতিহ্যবাহী বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় থেকে তিনি বিএসসি পাস করেন। তিনি সাত বৎসর শিক্ষকতা শেষে বর্তমানে একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে দেশ গড়ার কাজ করে যাচ্ছেন।
এসময় নবাবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক দেওয়ান আওলাদ হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অন্যদের মাঝে উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহবায়ক ইঞ্জিনিয়ার আরিফুর রহমান শিকদার, অধ্যক্ষ সাইদুর রহমান, উপজেলা শিক্ষা সমিতির সভাপতি শাহ আলমসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও উপজেলা আওয়ামীলীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
