এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী(মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে জমি নিয়ে মামলা মোকদ্দমা জের ধরে চাচাসহ চাচী, চাচাতো ভাইদের হামলায় ইলিযাস মোল্লা(৪৫) নিহত হয়েছে। এতে এছাহাক মোল্লা(৬৫) নামে পঙ্গু চাচা গুরুত্বর আহত হয়।
শুক্রবার সকাল ৯ টার দিকে উপজেলার কোলা ইউনিয়নের কোলা প্রাইমারী স্কুলের পাশে কাদিরের পুড়ি সিঙ্গারা দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনার ঘটনা ঘটে। সংবাদ পেয়ে ভাগিনা আলহাজ্ব ও সোহান গুরুত্বর আহতবস্থায় ইলিয়াস মোল্লা ও এছাহাক মোল্লাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য অটোরিক্সা যোগে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্য চিকিৎসক আহতদের অবস্থার অবনতি দেখে ঢাকা মির্ডফোড হাসপাতালে রেফার্ড করে। মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয়ার পর ইলিয়াস মোল্লার অবস্থার ব্যাপক অবনতি দেখা তাকে শ্যামলি হাসপাতালে রেফার্ড করে। শ্যামলি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় শনিবার বিকেলে ডাক্তার ইলিয়াস মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করে। এঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামসুন্নাহার বাদী চাচা সিদ্দিক মোল্লা ও তার স্ত্রী নারী ইউপি সদস্য রওশনারা বেগম বিবাদী করে ৪ জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। নিহত ইলিয়াস মোল্লা কোলা গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার ছেলে।
নিহতের বড় ভাই নিজাম মোল্লার অভিযোগে জানা যায়, তার চাচা এছাহাক মোল্লার সাথে অপর আরেক চাচা সিদ্দিক মোল্লার পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর যাবত বিরোধ ও মামলা মোকদ্দমা চলে আসছে। এনিয়ে স্থানীয়ভাবে বহুবার শালিস বৈঠক হয়। কিন্তু মীমাংসা হয়নি। সিদ্দিক মোল্লার স্ত্রী রওশনারা বেগম স্থানীয় নারীর ইউপি সদস্যের প্রভাবে বিরোধ আরো দীর্ঘায়িত হয়। এর জের ধরে এক বছর পূর্বে সিদ্দিক মোল্লাসহ তার স্ত্রী রওশনারা, ছেলে বিপ্লব ও বিদ্যু চাচা এছাহাক মোল্লার উপর হামলা চালিয়ে তার হাত পা কেটে পঙ্গু করে ফেলে। গত কযে কয়েক মাস পূর্বে এছাহাক মোল্লা জীবনরে নিরাপত্তা চেয়ে বিজ্ঞ আদালতে একটি ১০৭/১১৭ ধারায় মামলা করে। এই মামলা সিদ্দিক মোল্লাগংয়ের বিরুদ্ধে সার্চ ওয়ারেন্ট বের হয়।
এই আক্রোশে শুক্রবার সকালে পঙ্গু সিদ্দিক মোল্লাকে ঘটনাস্থলে পেয়ে সিদ্দিক মোল্লাসহ তার স্ত্রী রওশনারা, ছেলে বিপ্লব ও বিদ্যুগং হাতে দা, লোহার রড নিয়ে পুঙ্গ এছাহাক মোল্লা ও ভাতিজা ইলিয়াস মোল্লার উপর হামলা চালিয়ে তাদেরকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলে এ ঘটনায় কেউ সাক্ষী দিলে তাদেরকে খুন জখমের হুমকি দিয়ে সিদ্দিক মোল্লাগং ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
