সিংগাইরে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অপসারণে গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ দায়ের

সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি:মানিকগঞ্জের সিংগাইর পৌর এলাকার নয়াডাঙ্গী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জুলফিয়া সুলতানার অপসারণ চেয়ে গণস্বাক্ষর সম্বলিত অভিযোগ দায়ের করেছেন স্থানীয়রা।  বৃহস্পতিবার(১৮ জুন) সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্থানীয় মুরুব্বীরা  উপজেলা নির্বাহি অফিসারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে এ অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ সূত্রে জানাযায়,পৌর এলাকার নয়াডাঙ্গী গ্রামে কোন প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় কোমলমতি শিশুরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আজিমপুর ও লক্ষীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করতো। শিশুদের ভোগান্তির কথা চিন্তা করে স্থানীয়রা জমি দান করে ২০১৩ সালে একটি প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করেন। শুরু থেকেই ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি লেখাপড়ার ফলাফল ছিলো প্রসংশনীয়। পরবর্তীতে বিদ্যালয়টি সরকারিকরণ করা হয়। ২০১৯ সালে ওই বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে জুলফিয়া সুলতানা যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর স্থানীয় দাপটে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে অসদাচরণ, বিদ্যালয়ে রান্না-বান্না,নিজ সন্তানদের পরিচর্যাসহ ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্থ থাকেন।

সেইসাথে  দায়িত্ব অবহেলা এবং সহকারি শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণের ফলে দিন দিন স্কুলটিতে শিক্ষার্থী হ্রাস পায় এবং ফলাফল খারাপ হতে থাকে।
অভিযোগে আরোও উল্লেখ রয়েছে প্রধান শিক্ষক জুলফিয়া সুলতানা সরকারি অনুদানের অর্থ সঠিকভাবে ব্যবহার না করে নয়-ছয় করে হিসেবে গোঁজামিল এবং বিদ্যালয়ে কোন উন্নয়নমূলক কাজ করেন না। এ বিষয়ে মহল্লার সুশীল সমাজ প্রধান শিক্ষকের এহেন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ করলে তিনি স্থানীয় মুরুব্বিদের সাথেও অসদাচরণ করেন। তার স্বেচ্ছাচারিতায়  সুশীল সমাজ, শিক্ষক – শিক্ষার্থীসহ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি ক্ষুব্ধ। বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান উন্নয়নে জরুরী ভিত্তিতে প্রধান শিক্ষককে অপসারণ করা না হলে যেকোন ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনাসহ আইনশৃংখলার অবনতি ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো.আক্রাম হোসেন জানান,প্রধান শিক্ষকের আচারণে শিক্ষার্থী,অভিভাবক,স্থানীয় মুরুব্বিরা ক্ষুদ্ধ। বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান উন্নয়নে তাকে জরুরিভাবে অপসারণের জোড় দাবি জানান তিনি।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক জুলফিয়া সুলতানা বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ বিষয়ে আমাদের শিক্ষা অফিসার অবগত।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার খায়রুন্নাহার বলেন,লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ ব্যাপারে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *