চট্টগ্রামের পটিয়ায় অপহরণের দুই দিন পর জায়ান নামের এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার ভোরে পটিয়া পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ গোবিন্দারখীল গ্রামের পূর্বপাড়া এলাকার একটি ময়লার ভাগাড় থেকে ডিবি ও থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে একই পরিবারের নারীসহ পাঁচ প্রতিবেশীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন- মো. সাইফুল, শাহানুর, নিহা, নিহান ও ওয়াসিফা।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৬ জুন) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির সামনের রাস্তায় খেলার সময় নিখোঁজ হয় শিশু জায়ান। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে প্রথমে পুকুরে তল্লাশি চালানো হয়। পরে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করে পরিবার। নিখোঁজের পর জায়ানের বাবা শাহজাহানের বিছানায় একটি হাতে লেখা চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে লেখা ছিল- ‘তোর ছেলে আমাদের কাছে আছে। ছেলেকে পেতে চাইলে যেটা বলছি সেটা শুন। আধা ঘণ্টার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এবং তোমাদের পরিবারের যেকোনো একজনের আনলক করা মোবাইল একটি ব্যাগে করে বাড়ির সামনের রাস্তার পাশে ভাঙা দোকানের ভেতরে রেখে দিবি।’ পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চিঠিটি আলামত হিসেবে জব্দ করে তদন্তে নামে। তদন্তের একপর্যায়ে সন্দেহভাজন প্রতিবেশীদের আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও মরদেহের সন্ধান মেলে। গ্রেপ্তারদের বসতঘরের পেছনে থাকা ময়লার ভাগাড় থেকেই মূলত বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, টাকার লোভে প্রতিবেশীরা পরিকল্পিতভাবে শিশু জায়ানকে অপহরণ করে। পরে বিষয়টি ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দিলেও অভিযুক্তরা নিখোঁজের পর থেকে পরিবারের সাথে শিশুটিকে খোঁজার নাটকীয় অভিনয় করে আসছিল।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভোরে বাড়ির পাশের একটি ডোবা সংলগ্ন স্থান থেকে শিশুটির বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হচ্ছে। গ্রেপ্তারদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ থাকলে তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
