শৈত্যপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের মানুষ জবুথবু

ডেস্ক রিপোর্ট: পৌষের শুরুতেই জেঁকে বসেছে শীত। উত্তরাঞ্চলে কনকনে ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে, জবুথবু হয়ে পড়েছে মানুষজন। বিভিন্ন জেলায় কমেছে তাপমাত্রা। হাসপাতালগুলোতেও পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শীতজনিত রোগীর সংখ্যা। রোববার (২০ ডিসেম্বর) আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ আরও দুই থেকে তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।

পঞ্চগড়:

উত্তরের হিমেল হাওয়া ও ঘন কুয়াশায় পঞ্চগড়ে বয়ে যাচ্ছে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তীব্র শীতে জনজীবন কাহিল হয়ে পড়েছে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক জীবনযাপনে ছন্দপতন ঘটছে। এতে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া শ্রমজীবীদের। শীতের হাত থেকে বাঁচার জন্য লোকজন আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন।

তীব্র শীতে দরিদ্র ও ছিন্নমূল মানুষজন দুর্ভোগ এখন চরমে। শীতে গরম কাপড়ের অভাবে অনেক দরিদ্র মানুষ বাড়ি থেকে বের হতে না পারায় কাজেও যোগ দিতে পারছেন না। দ্রুত সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সহায়তা চেয়েছেন তারা। ভোরে ঘন কুয়াশা থাকার কারণে শহরের সড়কগুলোতে হেডলাইট জ্বালিয়ে যানবাহান চলাচল করে। এদিকে সকালে রোদ উঠলেও বাতাসে শীতের তীব্রতা রয়েছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাসেল শাহ জানান, পঞ্চগড়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ শুরু হয়েছে এবং কয়েক দিন থেকে তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। সকাল ৯টায় তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

রাজশাহী: ভোর হলেও গাঢ় কুয়াশায় আচ্ছন্ন পথঘাট। বেলা বাড়লেও সূর্যের দেখা না মিলায় হেডলাইট জ্বালিয়েই পথ চলছে যানবাহনগুলো। প্রচণ্ড ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে কনকনে হিমেল হাওয়া।

রংপুর:

একই অবস্থা উত্তরের আরেক জেলা রংপুরেও দ্বিতীয় দিনের মতো বয়ে যাওয়া মাঝারি থেকে মৃদু এ শৈত্যপ্রবাহে কাবু হয়ে পড়েছে জনজীবন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে জেলার হাসপাতালগুলোতে বেড়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়াসহ শীতজনিত নানা রোগীর সংখ্যা।

চুয়াডাঙ্গা:

চুয়াডাঙ্গার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। সন্ধ্যার পর থেকে সকাল পর্যন্ত শীতের তীব্রতা অব্যাহত রয়েছে। হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। মানুষ শীত থেকে রক্ষা পেতে আগুন জ্বালিয়ে তা নিবারণের চেষ্টা করছে। সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

চুয়াডাঙ্গা আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৯টায় চুয়াডাঙ্গায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জেলার ওপর দিয়ে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। হিমেল বাতাসের কারণে জনজীবনে কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গার হাসপাতালগুলোতে ঠান্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিশু ও বয়স্করা ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ডায়রিয়া ও শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি শিশুর সংখ্যা ৫০ বলে জানান কনসালটেন্ট ডা. মাহাবুবুর রহমান মিলন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *