নবাবগঞ্জে হত্যার পর অপহরণের নাটক-১৫দিন পর পুকুর থেকে গলিত লাশ উদ্ধার

মো. নাজমুল হোসেন দোহার-নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি. ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় অপহরণের ১৫দিন পর শিকারীপাড়া তোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মো. হৃদয় হোসেন (১৭) এর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের আর ঘোষাইল এলাকার একটি পরিত্যাক্ত পুকুর থেকে পুলিশ এ গলিত লাশ উদ্ধার করে। এঘটনায় মো. শাওন মোল্লা নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। আটককৃত শাওনকে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করলে প্রাথমিক ভাবে সে হত্যার কথা স্বীকার করেন। এবং তার কথামত মহিন বেপারীর পরিত্যক্ত পুকুর থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়।
নিহত হৃদয় হোসেন উপজেলার ঘোষাইল এলাকার সৌদি প্রবাসী নজরুল ইসলামের ছেলে। এবং আটককৃত শাওন মোল্লা উপজেলার আর ঘোষাইল এলাকার সাইদুল মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ নভেম্বর বিকালে হৃদয় ঘুরার কথা বলে বাসা থেকে বের হয়। রাত ১০টা বেজে গেলেও হৃদয় বাসায় না আসায় তার মা ফোন দিলে ছেলের মোবাইল বন্ধ পায়। পরে ছেলের সন্ধানে মা ময়না বেগমসহ তার সকল আত্মীয় স্বজন অনেক খোঁজাখোঁজি করেও পায়নি। খোজ না পাওয়ায় ১৭ নভেম্বর নবাবগঞ্জ থানায় একটি সারারণ ডায়রী করা হয়। এরপর গত ২২নভেম্বর হৃদয়ের ফোন থেকে তার মায়ের মোবাইলে ফোন আসে। ফোনে হৃদয়কে জীবিত পেতে কিছু টাকা পাঠাতে বলা হয় সেদিন ১০ হাজার টাকা পাঠানো হয় এবং হৃদয়কে হত্যার হুমকি দিয়ে মুক্তিপণ চাওয়া হয় হত্যাকারী শাওনকে গ্রেফতারঃ গত ২৮ নভেম্বর পূর্ণরায় হৃদয়কে জীবিত পেতে হলে মুক্তিপণ বাবদ ৫লাখ টাকা দাবি করা হয়। কিন্তু অপারগতা প্রকাশ করলে ১০হাজার টাকা পাঠাতে বলে ফোন করে বিকাশ নাম্বার দেয় শাওন। বিষয়টি তাৎক্ষনিক তদন্ত কর্মকর্তাকে জানালে তার পরামর্শে তাকে দেওয়া বিকাশ নাম্বারে কল দিতে বলেন তিনি। পরে তিনি ওই নাম্বারে কল দিয়ে বিকাশ নাম্বারের ঠিকানা জানেন। তাৎক্ষনিক পুলিশ ওই ঠিকানা অনুযায়ী বারুয়াখালী বাজারের একটি বিকাশের দোকানে পূর্বে থেকে ও পেতে থাকেন। শাওন টাকা তুলতে এলে তাকে আটক করা হয়।
লাশ গুমের চেষ্টা ও অপহরণের নাটকঃ শাওনকে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে শাওন হত্যার ঘটনা স্বীকার করেন। হত্যাকারি শাওনকে লাশ গুমের ঘটনা জিজ্ঞাস করলে তিনি বলেন, আমার সাথে হৃদয়ের গত ১৪ নভেম্বর রাতে আমাদের বাড়ির একটু সামনে একটি মাঠে মারামারি হয়। মারামারির একপর্যায় হৃদয়কে কিলঘুষি দিলে হৃদয় মাটিতে পরে যায়। আমি ভেবেছিলাম অজ্ঞান হয়ে গিয়েছে। আমি সেভাবেই হৃদয়কে ওখানে ফেলে রেখে বাড়ি চলে যাই। কিন্তু রাত আনুমানিকি ২টার দিকে আমি আবার ওখানে এসে দেখি হৃদয় মারা গিয়েছে। আমি ভয় পেয়ে লাশ গুম করার চেষ্টা করি। আমি আমার বাড়ি থেকে কাপড় শুকানো দড়ি এবং একটি বাশ নিয়ে আসি। পরে বাঁশটি মহিন বেপারীর পরিত্যক্ত পুকুরে পুতে নিই এবং হৃদয়ের হাত এবং পা রশি দিয়ে বাঁধি। পরে হৃদয়কে টেনে হিঁচড়ে ওই পুকুরে পুঁতা বাশের সাথে বেধে কচুরীপানা দিয়ে ঢেকে দিই। আমাকে যাতে কেউ শনাক্ত করতে না পারে সেজন্য অপহরণের নাটক সাঁজাই।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি সিরাজুল ইসলাম শেখ বলেন, এঘটনায় দুইজনকে আসামি করে থানায় এটি মামলা করেছে নিহতের মা ময়না বেগম। ইতোমধ্যে প্রধান আসামি শাওনকে গ্রেপ্তার করে রোববার আদালতে পাঠানো হয়। আমরা ৭দিনের রিমান্ড দাবি করলে আদালত তাকে ৩দিনের রিমান্ড দিয়েছেন। সেই সাথে নিহতের লাশ মায়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *