নবাবগঞ্জে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ

কাজী সোহেল.  ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলা ভূমি বৈচিত্রময় একটি এলাকা। একদিকে যেমন বিপুল পরিমান খাস জমি রয়েছে উপজেলাটিতে। অন্যদিকে অর্পিত সম্পত্তি রয়েছে প্রায় দুই হাজার ওর অধিক। আর এসব সরকারি সম্পত্তি যে যার মতো জবর দখল করে ভোগ করছেন। কিন্তু বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মতিউর রহমান ও সহকারী কমিশনার ভূমি আ. হালিম এই উপজেলায় দায়িত্বপ্রাপ্ত হওযায় পর থেকেই অবৈধ দখলদারদের কাছে মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে।

ইতোমধ্যে তাঁরা এ উপজেলা থেকে বেশ কিছু অবৈধ দলখদারদের উচ্ছেদ করেছেন। তারই আংশবিশেষ বুধবার (৭জুন ২০২৩ইং) দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে মাঝিরকান্দা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ১নং খাস খতিয়ানভুক্ত জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থাপনা নির্মাণ কাজ বন্ধ করে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেন নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. হালিম।

অভিযান সূত্রে জানা যায়, দোহার উপজেলার মো. কামাল হোসেন এবং মো. ফারুক জবর দখল করে সরকারি জমিতে স্থাপনা নির্মাণ করতেছে। স্থানীয়ভাবে সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নবাবগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আ. হালিম, সরকারি সার্ভেয়ার মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে ম্যাপ দেখে সরকারি জমি ও ব্যক্তি মালিকানা জমি নির্ধারণ করে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা ভেঙে অপসারণ করেন। উচ্ছেদকৃত জমির পরিমান পাঁচ শতাংশ।
এবিষয়ে নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আ. হালিম বলেন, সরকারি সম্পত্তি উদ্ধার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি জমি উদ্ধার করে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এছাড়া সরকারি খাস জমিতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ না করার জন্য এলাকাবাসীকে সচেতন হচ্ছে।

উল্লেখ্য, নবাবগঞ্জ উপজেলার আগলার কুখ্যাত ভূমি দস্যু জাহাঙ্গীর, গালিমপুর মৌজাস্থিত ঢাকা-বান্দুরা আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে রাস্তায় জমি দখল করে তিন তলা বিল্ডিং তুলে ফেলেছিলো। সেই ভবন উপজেলা প্রশাসন ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছেন। একই স্থানে ৩২ শতাংশ জমিতে আরেকটি প্রভাবশালী হেটেল স্থাপন করে বাণিজ্য করে আসতেছিলো। উপজেলা প্রশাসন সেটাও উচ্ছেদ করে জনসাধারনের জন্য রাস্তা উন্মোক্ত করে দিয়েছেন। ওই জমির আনুমানিক মূল্য প্রায় ৫০ লক্ষ্য টাকা। উপজেলার পুরাতন বান্দুরা মৌজায় বান্দুরা বাজারের সংলগ্ন ৪ কোটি টাকা মূল্যের ৫০ শতাংশ খাস জমিও উদ্ধার করেন নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এসিল্যান্ডর।

এছাড়া বড় জাফরপুর মৌজায় ১৩শতাংশ, বড় বলমন্তচর মৌজায় ২শতাংশ, হাগ্রাদী মৌজায় ১০শতাংশ, শিকারীপাড়া মৌজায় ১০শতাংশ, চন্দ্রখোলা মৌজায় ৫৬শতাংশ, পুরাতন বান্দুরা মৌজায় ১১শতাংশ এবং নবাবগঞ্জের সবচাইতে আলোচিত ১.৫৫ একর আয়তন বিশিষ্ট জমিদার বাড়ি “ব্রজ নিকেতন” উদ্ধার করে সাধারণ জনগনের প্রশংসা কুড়িয়েছেন উপজেলা প্রশাসন।
ঢাকা জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মমিনুর রহমান এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় উপজেলা প্রশাসন নবাবগঞ্জ সরকারি সম্পত্তি, খাস জমি ও অর্পিত সম্পত্তি উদ্ধার ও রক্ষনাবেক্ষণের জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে জানান নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মতিউর রহমান ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *