নবাবগঞ্জের ভালোবেসে বিয়ের দেড় মাসের মাথায় লাশ হলো নববধূ- স্বামী ও শাশুড়ি আটক

নিজস্ব প্রতিবেদক:  ঢাকার নবাবগঞ্জে ভালোবেসে বিয়ের দেড়মাস না পেরোতে লাশ হলো কিশোরী নববধূ ফাহিমা আক্তার (১৫)। শুক্রবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

নিহত নববধূ ফাহিমা আক্তার উপজেলার বান্দুরা ইউনিয়নের বারদুয়ারি গ্রামের মো. হাসান বেপারীর মেয়ে।

অভিযোগে জানা যায়, নয়নশ্রী ইউনিয়নের দেওতলা গ্রামের খায়রুল ইসলাম স্বপনের ছেলে সামিরুল ইসলাম সম্রাট (২২) সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল কিশোরী ফাহিমা আক্তারের। প্রেমিক সম্রাট বান্দুরা বাজারে একটি কাপড়ের দোকানের বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে চাকুরি করেন। গত দেড়মাস আগে তারা পালিয়ে বিয়ে করে। পরে তারা সম্রাটদের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। কিশোরীর পরিবার এ বিয়ে মেনে নেয়নি।

কিশোরীর বাবা হাসান বেপারী অভিযোগ করেন, বিয়ের সপ্তাহ পেরোতে যৌতুকের দাবিতে ফাহিমার উপর শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। দিন যায় তারা নানান ভাবে নির্যাতন বাড়াতে থাকে।

শেষে আজ (শুক্রবার) দুপুরে আমাদের ফোনে জানানো হয় ফাহিমাকে অসুস্থ অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছে। আমরা এসে ফাহিমাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পাই। এঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ফাহিমার মা জেসমিন আক্তার রুপা কান্না জড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করেন, ওরা আমার মেয়েকে নির্যাতন করে হত্যা করেছে। আমি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।

এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে ফাহিমার শ্বাশুড়ি লায়লা খাতুন (৪৫) ও সামিরুল ইসলাম সম্রাট (২২) কে আটক করেছে পুলিশ।

নবাবগঞ্জ থানার ওসি মমিনুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায়  দুইজনকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে  পাঠানো হবে। আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *