নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ঢাকার দোহার উপজেলার ১৯ নং দোহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানার ভেতরে অবস্থিত কয়েকটি কড়ই গাছ বিক্রি করে দিয়েছেন বিদ্যালয়ের সভাপতি আব্দুল মোতালেব । সোমবার সকালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় বিদ্যালয়ের বর্তমান যে সীমানা নির্ধারিত রয়েছে সেই সীমানায় ভেতরে দুটি কড়ই গাছ কাটছে বেশ কয়েকজন শ্রমিক। এসময় শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায় আব্দুল মোতালেব গাছগুলো বিক্রি করে তাদের কেটে দিতে বলেন। এমন ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বেশ কয়েকজন অভিভাবক সদস্য।
অভিভাবক সদস্য মাসুদ পারভেজ পলাশ জানান,আমরা জানি গাছ গুলো স্কুলের সীমানার ভেতরে। তারা জমি দাতা তাই তাদের ইচ্ছেমত সব সময় গাছ কেটে নেয়। আমরা এবিষয়ে কিছুই জানিনা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক সদস্য জানান,সভাপতির পরিবার জমি দাতা। যেহেতু স্কুলটি এখন সরকারি তাই সভাপতি পরিচালনা পরিষদের মিটিং ছাড়া স্কুলের কোন কিছু কর্তন বা বিক্রি করার এখতিয়ার রাখেন না। পুর্বের সীমানার বাইরে জদি তারা জমি দাবি করেন সেক্ষেত্রে জমি পরিমাপের আগে পরিচালনা পরিষদকে না জানিয়ে কোন ভাবেই গাছ কাটা ঠিক হয়নি।
১৯ নং দোহার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদোৎসাহী সদস্য শেখ রুনু জানান, জমি পরিমাপের আগে গাছ কর্তন করা ঠিক হয়নি।
বিদ্যালয়ের বিদোৎসাহী সদস্য রাদিফুল ইমলাম বলেন, যেহেতু তিনি (আব্দুল মোতালেব) বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি সেহেতু জমি পরিমাপ করে কমিটির সকলের সাথে সিদ্ধান্ত নিয়ে গাছ কাটা উচিৎ ছিলো।
বিদ্যারয়ের প্রধান শিক্ষক উষা রানী সূত্রধর নববাংলাকে জানান, আমি ২০১০ সালে এই বিদ্যালয়ে যোগদান করার পর থেকে আগের সীমানায় বিদ্যালয়ের কর্মকা- পরিচালিত হয়। কিন্তু বিদ্যালয়ের সভাপতি এই জমিতে বেশ কিছু অংশ দাবি করছে। বর্তমানে গাছগুলো বিদ্যালয়ের সীমানায় রয়েছে। আর এই গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানিনা।
বিদ্যালয়ের পরিচালনা পরিষদের সভাপতি আব্দুল মোতালেব জানান, আমার জায়গায় আমি গাছ কাটতেছি এখানে সরকারি কোনো গাছ নেই। কত টাকায় গাছ বিক্রি হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,যিনি গাছ বিক্রি করেছেন তার কাছে জিজ্ঞেস করেন।
এবিষয়ে দোহার উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা পারভীন সুলতানা নববাংলাকে জানান, এভাবে গাছ কাটার কোনো নিয়ম নেই। যদি গাছের কারনে বিদ্যালয়ের কোনো ক্ষতি সাধিত হয় সেক্ষেত্রে পরিচালনা পরিষদের চিঠির মাধ্যমে অবহিত করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় টেন্ডারের মাধ্যমে তা বিক্রি হবে। যদি সরকারি আইন ভঙ্গ করে কেউ গাছ বিক্রি করে থাকে প্রশাসানের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
