দোহারে মানব পাচার হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী-পুরুষদের জন্য অবহিতকরণ সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহার উপজেলায় আশ্বাস মানব পাচার হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী এবং পুরুষদের জন্য প্রকল্প অবহিতকরণ সভার আয়োজন করে ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন। সোমবার দুপুরে উপজেলা পরিষদের সভা কক্ষে এ অবহিতকরণ সভা অনুষ্ঠিত হয় ।
ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের পরিচালক জেসিয়া খাতুনের সভাপতিত্বে ও ওয়্যারবী ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের প্রজেক্ট ম্যানেজার শাহ মারুফ এহসান সিদ্দিকীর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
অবহিতকরণ সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সাবরিনা লাকী, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. তানজিল আহমেদ চৌধুরী, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা সামসুন নাহার খানসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিবৃন্দ, সাংবাদিক ও আশ্বাস প্রকল্পের কর্মীবৃন্দ ।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন বলেন, মানব পাচারের শিকার হয়েছেন এমন লোকদের মানসিক ও আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে যারা উদ্যোগ নিয়েছেন তাদের আমি ধন্যবাদ জানাচ্ছি। তবে তিনি বা তারা সত্যিইকার অর্থেই মানব পাচারের শিকার হয়েছেন কিনা তা সবার আগে নিশ্চিত হতে হবে। দোহার-নবাবগঞ্জ এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যাওয়ার প্রবণতা অনেক বেশি। তাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে না পারলে প্রকল্পের যে লক্ষ্য উদ্দেশ্য তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হবে না। আমি আশা করবো, যারা এই প্রকল্পের সাথে আছেন তারা সঠিকভাবে উপকারভোগী নির্বাচন করতে কাজ করবেন। আর এক্ষেত্রে যেকোন ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আমরা তা প্রদানে সর্বদা প্রস্তুত আছি।
সভাপতির বক্তব্যে জেসিয়া খাতুন বলেন, নদীবেষ্টিত দোহার উপজেলায় উপযুক্ত কর্মসংস্থান না থাকায় এ অঞ্চলের বেশিরভাগ মানুষ বিদেশমুখী। তবে যারা যান তাদের বেশিরভাগ অল্প শিক্ষিত কিংবা সংশ্লিষ্ট কাজের অভিজ্ঞতা নাই। ফলে তারা সরকারিভাবে না গিয়ে বিভিন্ন দালালের মাধ্যমে বিদেশে যাওয়ায় চেষ্টা করেন। এক্ষেত্রে অনেকেই ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরলেও সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরেন। এতে একদিকে যেমন দেশের ভাবমূর্তি বিনষ্ট হয় অন্যদিকে প্রতারিত হয়ে নিজের সবটুকু হারিয়ে পথে বসে যাচ্ছেন বিদেশগামী এসব ব্যক্তিরা। তারা যেন কোন ধরনের প্রতারণা বা পাচারের শিকার না হন এবং তারা যেন এদেশে মর্যাদার সাথে বসবাস করতে পারেন সেই লক্ষ্যেই আমাদের এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। আমরা আশাকরি, সকলের সহযোগিতায় দোহার উপজেলায় মানব পাচারের শিকারগ্রস্তদের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারবো।
উক্ত প্রকল্পটি উইনরক ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ড দূতাবাস-এর আর্থিক সহযোগিতায়, দূতাবাসের সহযোগিতায় ৭টি সহযোগি সংগঠনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ১০টি জেলায় বাস্তবায়ন করছে । এরই অংশ হিসেবে মানব পাচার হতে উদ্ধারপ্রাপ্ত নারী ও পুরুষদের কাউন্সেলিং, চিকিৎসা সেবা, আইনি সহায়তা ও কর্মমূখী বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে তাদের সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা পুন:প্রতিষ্ঠা করা অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন প্রদান করাই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *