দোহারে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা,কেন্দ্র সচিবকে ঘটনার কারণ জানতে চেয়ে নোটিশ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ২০২০ সালের এসএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন ঢাকার দোহার উপজেলার বেগম আয়েশা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের ২০১৮ সালের অনিয়মিত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার ভুক্তাভোগী শিক্ষার্থীরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে লিখিত অভিযোগ দিলে ভুলের বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা ২০২০ এর ১৫.৬.১ ধারায় স্পষ্ট বলা হয়েছে এসএসসি ২০১৭-২০১৮ ও ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষার্থীদের জন্য ২০২০ সালের সিলেবাস অনুযাযী প্রণীত প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের প্রশ্নপত্রে ২০২০ সালের নিয়মিত পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা দেয়ায় সম্ভাব্য ক্ষতির মুখে পড়েছেন জয়পাড়া পাইলট উচ্চ বিদালয়ের ২২ জন ,কাটাখালী মিছের খান উচ্চ বিদ্যালয়ের ১৮জন সহ অন্য আরও দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরও ৬জন শিক্ষার্থী। মোট ৪৬ জন পরীক্ষার্থীকে ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা দেওয়ানো হয়েছে। পরীক্ষা হলে পুরনো সিলেবাসের প্রশ্ন পেয়ে বিভ্রান্ত হয়ে পড়েন শিক্ষার্থীরা। এতে তাদের সার্বিক ফলাফলে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এই ভুলের সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন পরীক্ষার্থীরা। প্রথমে ভুলের দায় স্বীকার না করলেও পরে ভুলের দায় স্বীকার করেছেন কেন্দ্রের সচিব বেগম আয়েশা উচ্চ বিদ্যালয় এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কুলসুম বেগম।
এদিকে, ভুল হয়েছে স্বীকার করে পরীক্ষার্থীরা যাতে ক্ষতির সম্মুখিন না হয় সে ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী।
কাটাখালি মিছের খান উচ্চ বিদ্যায়ের প্রধান শিক্ষক অহিদুল ইসলাম অনু ঘটনা স্বীকার করে বলেন, পরীক্ষার্থীরা আমাকে ঘটনাটি জানাইনি। তবে এক শিক্ষককে কাছ থেকে ঘটনাটি জানতে পেরে খবর নিয়ে দেখি বেগম আয়েশা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের ভুলে আমার প্রতিষ্ঠানের ১৮জন পরীক্ষার্থী ২০২০ সালের সিলেবাস অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে পারেনি। শিক্ষকদের ভুলে ২০১৮ সালের অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সিলেবাসে পরীক্ষা দিতে হয়েছে। এ কারণে তারাও ক্ষতির মুখে পড়তে পারে এমন আশঙ্কা করছেন।
এবিষয়ে জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল খালেক বলেন, আমার প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায় শিক্ষা শাখার ১০ জন ও মানবিক শাখার ১২ জন পরীক্ষার্থী ভুল প্রশ্নে বাংলা প্রথমপত্রে পরীক্ষা দিয়েছে। পরীক্ষার পর শিক্ষার্থীরা এ বিষয়ে আমাকে জানালে আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি অবগত করি।
এছাড়াও দোহার উপজেলা ২০২০ সালের পরিবর্তে ২০১৮ সালের প্রশ্ন দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা। তিনি জানিয়েছেন আমি ওই কেন্দ্রের কেন্দ্র সচিব কুলছুম বেগমকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার কারন জানতে নোটিশ করেছি।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জ্যোতি বিকাশ চন্দ্রও ঘটনাটি দুঃখ জনক বলে জানান, যাদের ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে সে বিষয়টি কেন্দ্র সচিপের অনেকটা অদক্ষতার কারনে হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আক্তার রিবা স্যার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *