সামাজিক অবক্ষয়: জন্মদিন উদযাপনের নামে অপসংস্কৃতি

কাজী জোবায়ের আহমেদ:  গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে কোমরে রশি পেঁচিয়ে মাথায় ডিম ভেঙে অদ্ভূত ভাবে জন্মদিন উদযাপন করছে ঢাকার দোহারের একদল শিক্ষার্থী। তাদের অদ্ভুত জন্মদিন উদযাপনকে অপসংস্কৃতি ও সামাজিক অবক্ষয় বলে মনে করছেন সুশীল সমাজ। এমন ঘটনা এখন সারাদেশে লক্ষনীয়। তাই এমন জন্মদিন উদযাপন বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় শিক্ষকরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, ফেসবুক ও ইউটিউব দেখে ভিনদেশি সংস্কৃতির আদলে অদ্ভুত এক জন্মদিন উদযাপন করেছে দোহারের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের একদল শিক্ষার্থীসহ অনেক বখাটে যুবকরা। শুধু তাই নয় দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠছে তাদের জন্মদিন পালন। এসব দৃশ্য আবার ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয়। সেখানে দেখা যায় পুরো শরীরে ময়দা গুলিয়ে পানি ঢেলে মাথায় ডিম ভেঙে পালন করা হয় জন্মদিন । এভাবে জন্মদিন পালনের বিষয়ে কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা এভাবেই অভ্যস্ত। এভাবে জন্মদিন উদযাপনে আমরা অনেক মজা পাই, আনন্দ পাই।
এদের অদ্ভুত জন্মদিন উদযাপনের ঘটনায় জয়পাড়া বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অধ্যক্ষ মো. সিদ্দিকুর রহমানের বক্তব্যে উঠে আসে লোম হর্ষক ঘটনা। তিনি জানান, এটি একটি সামাজিক ব্যাধি। গত বছর থেকে এপর্যন্ত এমন জন্মদিন পালন করতে গিয়ে এক ছাত্র হারিয়েছেন তার কিডনি। তিনি জানান, বন্ধুদের পাল্লায় পরে জন্মদিন উদযাপনে এসে এক ছাত্রের করুন পরিনতি হয়েছে। জন্মদিন উপলক্ষে ঐ ছাত্রকে জয়পাড়া কলেজের ভেতরে একটি গাছের সাথে বেধে অন্য বন্ধুরা আটা ময়দা মেখে ডিম ছুড়ে পুকুরের পানিতে ফেলে দেয়। পরে পুকুরে থাকা বাঁশ তার কোমরের পাসে ঢুকে গিয়ে মারাত্মক আহত হয়। এখন তার একটি কিডনি অনেকটা বিকল। এছাড়া অপর এক ছাত্রের দুই চোখের অন্ধত্বের ঘটনাও ঘটে।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, এমন অপসংস্কৃতি এখনই বন্ধ করে একটি আইন পাস করা উচিত। যাতে দেশের কোন স্থানে এমন ঘটনা আর না ঘটে।
জয়পাড়া সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এস এম আব্দুল খালেক জানান,এমন অদ্ভুত জন্মদিন উদযাপন অপসংস্কৃতি এবং সামাজিক অবক্ষয়। পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অভাবে এসব কর্মকা- করে বেড়ায় কিছু যুবক। এটি অন্যদের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এভাবে জন্মদিন পালন একসময় সহিংস আকার ধারণ করবে। এসব কর্মকা-ে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া উচিত। না হলে আগামীর প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *