সহায়তার নামে দরিদ্রদের সঙ্গে তামাশা করবেন না : ন্যাপ

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুজিববর্ষ উপলক্ষে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরে দেশের ১ কোটি ৯ হাজার ৯৪৯টি পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেবে সরকার সংবাদটি দেখে অনেকের মুখে হাসি ফুটলেও তা আবার নিভিয়ে গেছে। এটা কি ‘সহায়তা নাকি তামাশা’ প্রশ্ন তুলে বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া বলেন, ‘ঈদ সহায়তার নামে দেশের দরিদ্র জনগণের সঙ্গে তামাশা করবেন না। দরিদ্র মানুষের সঙ্গে তামাশা করার অধিকার কারো নেই।’

বৃহস্পতিবার (১ এপ্রিল) গণমাধ্যমে প্রেরিত এক বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় এসব কথা বলেন।

তারা বলেন, ‘সরকারের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি হতে জানা যায় যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর আনন্দের সঙ্গে উদযাপনের জন্য অসহায়, দুস্থ ও অতি-দরিদ্র পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। এক্ষেত্রে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও দরিদ্র পরিবারকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। চলমান করোনা পরিস্থিতিতে পবিত্র রমজানের প্রাক্কালে প্রদত্ত এ সহায়তা অতি-দরিদ্র পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।’

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘মন্ত্রণালয় প্রতি পরিবারকে ১০ কেজি চালের মূল্যের সমপরিমাণ ৪৫০ টাকা করে প্রদান করবে। আর এর মাধ্যমেই প্রমাণিত হয় সরকারের এই মন্ত্রণালয়ের আজকের সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে কোনো জ্ঞান নেই। তারা কি বলতে পারবে, ৪৫ টাকা কেজি দরে চাল এখন কোথায় পাওয়া যায়? পরিবারপ্রতি ৪৫০ টাকা মানে গড়ে পরিবারের সদস্যপ্রতি বা জনপ্রতি শ’খানেক টাকা। তাও ভিজিএফ কার্ডের আওতায়। তা দিয়ে ওই পরিবারের মুখে কি হাসি ফুটতে পারে? অথবা ক্রয় ক্ষমতা কতটুকু বৃদ্ধি পেতে পারে?’

তারা আরও বলেন, ‘এ ধরনের প্রকল্প এদেশে যুগ যুগ ধরেই চলমান। এর সঙ্গে ঈদ ও মুজিববর্ষকে যুক্ত করে বাহারি শিরোনাম দিয়ে প্রচারের মাধ্যমে আসলে তারা তাদের কোনো ব্যর্থতা আড়ালের চেষ্টা করছেন কি-না তা খতিয়ে দেখা উচিত। মন্ত্রণালয়ের কর্তাব্যক্তিরা হয়তো জানেই না যে, এখন একজন দিনমজুর দৈনিক ৬০০ টাকা রোজগার করেন। তাহলে এই টাকা দেয়ার নামে কি মন্ত্রণালয় দরিদ্র জনগণের সঙ্গে ঠাট্টায় লিপ্ত হচ্ছেন?’

নেতৃদ্বয় বলেন, ‘পরিবারপ্রতি এককালীন ৪৫০ টাকা পাওয়ার জন্য তাদের কার কার পেছনে ঘুরতে হবে, কত টাকা খরচ করতে হবে এই প্রশ্নগুলোর কোনো উত্তর কি তাদের জানা আছে? নাকি মাঠ পর্যায়ে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ লুটপাটের জন্যই ঈদ ও মুজিববর্ষকে যুক্ত করে বাহারি শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে কি-না তা সরকার প্রধানকে এখনই তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন। অন্যথায় এই টাকা লুটপাটের মাধ্যমে কিছু মানুষের পেট ভরলেও জনগণের কোনো কাজে আসবে না। এটা সহায়তাতো নয়ই, রীতিমতো এক ধরনের মশকরা।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *