নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলছে বিক্রয় প্রতিনিধিরা

কাজী জোবায়ের আহমেদ : সিভিল সার্জনের নিষেধাজ্ঞা আমান্য করে মুমূর্ষু রোগীদের থামিয়ে এখনো ছবি তুলছে ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিরা। এছাড়া সরকারি হাসপাতালের চত্বরে মোটরনসাইকেল রাখা নিষেধের আদেশ দিলেও মানছেনা বিক্রয় কর্মীরা। এ নিয়ে বেশ কিছু রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগে সোম ও মঙ্গলবার (১০, ১১ ফেব্রুয়ারি) দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে গিয়ে এর সত্যতা পাওয়া যায়। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হলেই রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি তুলতে প্রতিযোগিতা শুরু হয়।

কার আগে কে ছবি তুলবে এমন প্রতিযোগীতায় যেন রোগীর অবস্থা নাজেহাল । রোগীর জরুরি মুহূর্তও আমলে নেন না তারা। তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে চিকিৎসক কেনো কোম্পানির ওষুধ লিখেছেন তা দেখা। এদিকে এমন হয়রানিতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করেন সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা।

রোগীদের এমন হয়রানির বিষয়টি আমলে নিয়ে ঢাকা জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান শনিবার (১ জানুয়ারি) এক লিখিত আদেশে প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলায় নিষেধাজ্ঞা দেন। ঢাকা জেলার আওতাধীন প্রত্যেকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণে নির্দেশনা দেয়া হয়। সিভিল সার্জন স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, কোনো অবস্থাতেই হাসপাতাল চত্বরে চিকিৎসক প্রদত্ত ব্যবস্থাপত্র (প্রেসক্রিপশন) চাইতে বা দেখতে এবং ছবি তুলতে পারবে না ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা।

এছাড়া শুধুমাত্র বৃহস্পতিবার ও রোববার দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত মেডিকেল রিপ্রেজেনটেটিভেরা চিকিৎসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন। এছাড়া অন্য কোনো দিন বা সময়ে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান কিংবা মোটরসাইকেলও রাখতে পারবেন না। চিঠিতে সিভিল সার্জন আরও উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষকে সুষ্ঠুভাবে সেবা দেয়ার লক্ষ্যে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এদিকে আদেশ অমান্য করে ছবি তুলতে দেখা যায় অরিয়ন কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি কুতুব নামে এক ব্যক্তিকে। ছবি তোলার বিষয়ে জানতে তার কাছে যেতেই দ্রুত মোটরসাইকেল নিয়ে চলে যান তিনি।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হাসপাতাল চত্বরে মোটরসাইকেল রাখা বিকন কোম্পানির বিক্রিয় প্রতিনিধি মনতোশ বারই এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি আদেশ অমান্য করে গাড়ি রেখেছি। আগামীতে আর রাখবোনা।

এবিষয়ে দোহার ফার্মাসিটিক্যাল এসোসিয়েশন (ফারিয়া) এর সাধারণ সম্পাদক শহিদুজ্জামান চৌধুরী হীরা জানান, আমরা নিষেধাজ্ঞার আদেশ পাওয়ার পর সকল ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের সতর্ক করে দিয়েছি। এরপরেও যদি কেউ আদেশ অমান্য করে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. জসিম উদ্দিন জানান, সিভিল সার্জনের এমন সিদ্ধান্ত ও চিঠির বিষয়টি আমার দোহারের সকল ওষুধ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধিদের জানিয়ে দিয়েছি। এর পরেও যদি আইন অমান্য করে ওষুধ কোম্পানীর কোন বিক্রয় প্রতিনিধি প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলে রোগীদের হয়রানি করেনা তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *