নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটের ভাটায়

নবাবগঞ্জে কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে ইটের ভাটায়

নিজস্ব প্রতিনিধি : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার বান্দুরা ও মৃধাকান্দা এলাকার কৃষি জমির মাটি যাচ্ছে তিনটি ইটের ভাটায়। এখানকার অধিকাংশ জমি দুই ফসলির হওয়ায় জমির মাটি ইটভাটায় ব্যবহারের ফলে দিন দিন অনাবাদি হয়ে যাচেছ কৃষি জমিগুলো। ফলে বর্গাচার্ষীরা নানাভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের পর থেকে ইটভাটায় ব্যবহারের জন্য এখান থেকে মাটি নিয়ে ইট তৈরি করে থাকেন ভাটার মালিকরা।

জানা যায়, এক সময়ে বান্দুরা ও মৃধাকান্দা এলাকার কৃষিজমিগুলো রবিশস্যে উৎপাদন হতো আশাব্যঞ্জক। এখানে মশুর, ছোলা, গম ধনিয়া, সরিষা ও কালোজিরাসহ অন্যান্য ফসল উৎপন্ন হতো। এখানকার উৎপাদিত শস্য বিক্রি করেই জীবনের রসদ যোগাতো তারা। কিন্তু গত ২০ বছর আগে মৃধাকান্দা এলাকায় কৃষি জমি দখল করে অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৩টি ইটভাটা। মহাসড়কের ১ কিলোমিটারের মধ্যে ইট ভাটা থাকার নিয়ম না থাকলেও ঢাকা দোহার আঞ্চলিক মহাসড়ক ঘেষেই নির্মিত হয়েছে ৩টি ইটভাটা। আর ইটভাটার জন্য ব্যবহার করা হচেছ কৃষি জমির মাটি।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এই এলাকার জমি থেকে মাটি কাটার ফলে অনাবাদি হয়েছে অনেক জমি। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করার ফলে অপরিকল্পিতভাবে গভীর খনন করার ফলে পাশের জমি ভাঙনের শিকার হচেছ।

বৃহস্পতিবার গভীর রাতে আশপাশের জমির মালিকদের না জানিয়ে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে বিরোধ সৃষ্টি হয় তাদের সাথে। এ নিয়ে একাধিকবার বাকবিতন্ডার সৃষ্টি মাটি ব্যবসায়ীদের সাথে। গত বছর লক্ষীপ্রসাদ-মৃধাকান্দা চক এলাকা থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার ফলে কিছুদিন পরেই বৃষ্টিপানিতে লক্ষীপ্রসাদ কবরস্থানের রাস্তাটি আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বর্তমানে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে রাস্তাটি।

স্থানীয়রা জানায়, একটি সংঘবদ্ধ চক্র প্রতিবছর এই সময়টাতে কৃষি জমির মালিকদের কৌশলে ম্যানেজ করে মাটি কাটার ফলে কৃষি জমিগুলো দিন দিন অনাবাদি করছে। লক্ষীপ্রসাদ এলাকার গো খামারী রবিউল জানান, আমার মতো এরকম মাঝারি পর্যায়ের দুগ্ধ খামারি রয়েছে এই এলাকায়, যাদের অধিকাংশের গো খাদ্যের যোগান আসে বান্দুরা ও মৃধাকান্দা- লক্ষীপ্রসাদ চক এলাকা থেকে। কিন্ত একটি চক্রের প্রত্যেক্ষ মদদে এখানকার কৃষি জমিগুলো নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে। আর এই মাটি বিক্রি চক্রের মুল হোতা হিসেবে কাজ করছে ইকরাশী এলাকার মোবারক বেপারী। ভেকু দিয়ে মাটি কেটে ট্রাকের মাধ্যমে অন্যের ফসলি জমির উপর দিয়ে যাতায়াতের ফলে নষ্ট হচ্ছে বিভিন্ন ফসল।

আরেক ভুক্তভুগি মজিবর রহমান জানান, রাতের অন্ধকারে আমার জমির পাশের জমি থেকে অপরিকল্পিতভাবে মাটি নেয়ায় ফলে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে আমার জমিটি। যে কোনো সময় ভূমি ধ্বস হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। এজন্য আমি ভূমি দস্যুদের হাত থেকে কৃষি জমি রক্ষার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এচই.এম সালাউদ্দিন মনজু বলেন , কৃষি জমি নষ্ট করে কোনো কিছুই করা যাবে না। যদি এরকম কেউ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *