গ্রামের বাড়িতে নিয়ে গোপনে কলেজছাত্রীর মরদেহ দাফনের চেষ্টা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর এলাকায় শারমিন আক্তার (১৭) নামে এক কলেজছাত্রীর মরদেহ গোপনে দাফনের চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে তার পরিবারের বিরুদ্ধে। পরে মরদেহটি উদ্ধার করে সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ।

নিহত শারমিন আক্তার গৌরনদী উপজেলার টরকী বন্দর এলাকায় কাঠ ব্যবসায়ী খোকন সরদারের মেয়ে ও গৌরনদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ব্যবসায়ী খোকন সরদারের বাড়ি উপজেলার টরকীর চর এলাকায়।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাতে এ নিয়ে শারমিনকে গালিগালাজ করেন তার বাবা-মা। এরপর রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুর থেকে তার কোনো সাড়াশব্দ শোনা যাচ্ছিল না। রাতে গোপনে শারমিনের মরদেহ দাফনের জন্য তার পরিবারের সদস্যরা গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া এলাকা নিয়ে যায়।

প্রতিবেশীরা জানান, শারমিনের মৃত্যু সম্পর্কে তার বাবা-মা কাউকে কিছু বলেননি। বিষয়টি তারা গোপন করেছেন। এরপর কাউকে কিছু না জানিয়ে শারমিনের মরদেহ দাফনের জন্য গ্রামের বাড়ি কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়ায় নিয়ে যান। বিষয়টি আশপাশের অনেকের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করেছে।

গৌরনদী মডেল থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) সাধন কুমার মন্ডল জানান, খবর পেয়ে তিনিসহ পুলিশের একটি দল গিয়ে রোববার রাতে কালকিনি উপজেলার কয়ারিয়া থেকে শারমিনের মরদেহ উদ্ধার করে গৌরনদী মডেল থানায় নিয়ে আসেন।

পাড়া-প্রতিবেশীরা বিষয়টি ভিন্নভাবে প্রচার করতে পারে- এমন আশঙ্কায় শারমিনের মরদেহ রাতে তারা দাফনের ব্যবস্থা করেছিলেন।

এসআই সাধন কুমার মন্ডল জানান, শারমিনের মৃত্যুর বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ ও ধরন নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ময়নাতদন্তের জন্য শারমিনের মরদেহ বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *