কেরানীগঞ্জে জাল দলিল ও জাল নামজারি সৃজনকারী চক্রের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে

কেরানীগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার কেরানীগঞ্জে জাল দলিল ও জাল নামজারি সৃজনকারী চক্রের মূল হোতারা এখনো ধরাছোয়ার বাইরে রয়েছে । আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট অফিসের দায়িত্বগত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চোখ ফাকি দিয়ে এসব চক্র একের পর এক এ ধরনের অপরাধ সংগঠিত করেই যাচ্ছে। এদের খপ্পরে পড়ে অনেক সাধারন নিরীহ মানুষ সর্বস্বান্ত হয়ে পরছে। এই চক্রের সদস্যরা কেরানীগঞ্জ মডেল থানা সাব রেজিস্ট্রি অফিস, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা সাব রেজিস্ট্রি অফিস, কেরানীগঞ্জ মডেল ও দক্ষিণ থানা ভূমি অফিসে প্রতিনিয়ত আনাগোনা করে থাকে। এই চক্রের সদস্যরা সাব রেজিস্ট্রি অফিস ও ভূমি অফিসগুলোর পাশে একটি অফিস নিয়ে বসে এবং সেখান থেকেই তারা জাল দলিল ও জাল নামজারি সৃজনের কাজগুলো করে থাকে। গত ১২ জানুয়ারি জাল দলিল ও জাল নামজারি সৃজনকারী চক্রের তিন সদস্য মোহাম্মদ রাজু (৩৬),মৃদুল রাজবংশি (২৩) ও মোহাম্মদ বাবুল (৫০)কে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে দণ্ড প্রদান করা হয়। কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল দক্ষিণ সহকারী কমিশনার (ভূমি) ভ্রাম্যমান আদালতের এক্সিকিউটি ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব আহমেদ জানান, এক ব্যক্তি নামজারি পর্চার খতিয়ান তল্লাশি দেওয়ার জন্য তার অফিসে আসেন। এ সময় তল্লাশি দিতে গিয়ে দেখা যায় নামজারিটি ভুয়া। তখন ওই ব্যক্তিকে আটক করে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে জাল দলিল ও জাল নামজারি সৃজন কারি চক্রের তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে তাদেরকে দন্ড প্রদান করা হয়।

তাদের কাছ থেকে তত্ত্ব পেয়ে এই কাজের সাথে জড়িত থাকার সন্দেহে কাউসার আহমেদ নামে এক দলিল লেখকের কোনাখোলাস্থ তার অফিসটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। নাম প্রকাশে একাধিক সূত্র জানায় এই চক্রটি আর্থিক সুবিধা নেওয়ার জন্য কথিত এক সাংবাদিকের মাধ্যমে কেরানীগঞ্জের রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার( ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া ও তার অফিসের নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে একটি পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে। ওই পত্রিকার প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে গত ১২ই জানুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক আরিফ আহমেদ, উপসহকারী পরিচালক বিলকিস বানুর নেতৃত্বে একটি ইনফোর্সমেন্ট টিম আটি বাজারে কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভুমি) জান্নাতুল মাওয়ার কার্যালয়ে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযান পরিচালনায় দুদকের ইন ফোর্সমেন্ট টিম ওই অফিসের কোন অনিয়ম দুর্নীতি পায়নি।অভিযান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের দুদকের ইনফোর্সমেন্ট টিমের প্রধান আরিফ আহমেদ জানান, আমরা যে পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের সূত্র ধরে এই অফিসে অভিযান চালালাম সেই প্রকাশিত সংবাদের তথ্যগুলো ছিল মিথ্যা বানোয়াট। প্রকাশিত সংবাদে যারা তথ্য দিয়েছেন বলে সংবাদে উল্লেখ করা হয়েছে আসলে তারা কোন তথ্যই দেননি। আসলে আমরা এই অফিসে অভিযান চলাকালীন কোন অনিয়ম দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনের কোন সন্ধান পাইনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন সঙ্ঘবদ্ধ জাল দলিল ও জাল নামজারি সৃজনকারী চক্রটি খুবই শক্তিশালী। তাদের ভয়ে এলাকায় কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না। একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় কথিত ও ওই সাংবাদিক মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা পাওয়ার লোভে সহকারী কমিশনার( ভূমি) জান্নাতুল মাওয়া ও তার অফিসের বিরুদ্ধে মনগড়া অনিয়ম ও দুর্নীতির মিথ্যা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। কেরানীগঞ্জের রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের নাজির মোহাম্মদ শরীফ জানান, আমাদের ম্যাডাম জান্নাতুল মাওয়া একজন সৎ কর্মকর্তা। তিনি কোন অন্যায় অনিয়ম ও দুর্নীতির সাথে জড়িত নয়। আমাদের অফিসে দুর্নীতি দমন কমিশনের ইন ফোর্সমেন্ট টিমের অভিযানের মাধ্যমে তারাই প্রমাণ করেছেন যে আমাদের অফিসটি সম্পূর্ণ অনিয়ম ও দুর্নীতি মুক্ত এবং আমাদের ম্যাডাম জান্নাতুল মাওয়া একজন সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মকর্তা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *