নিজস্ব প্রতিবেদক: : ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলার একটি সিআর মামলার সিআইডি’র তদন্ত প্রতিবেদনে গড়মিল ও ন্যায় বিচারে বড় বাধাঁ হয়ে দাড়িয়েছে তদন্ত কর্মকর্তার নানা অনিয়ম ও গাফলতিতে।
এই গড়মিল প্রত্যাখান করে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালতে বাদী মাহবুবুর রহমান টিপু তদন্ত কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিবেদনের উপর আস্থা হারিয়ে নারাজি দাখিল করেছেন।
মামলার সুত্রে জানা যায়, গত ১৮ ফেব্রয়ারি ২০২৫ সালে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আমলী আদালত,নবাবগঞ্জে একটি সি-আর জাল-জালিয়াতির ১৯৬/২০২৫ মামলা দায়ের করেন বাদী। আদালত তদন্তের দায়িত্ব দেন ঢাকা জেলার অপরাধ তদন্ত বিভাগ(সিআইডি)কে।
দীর্ঘ সময় অতিবাহিত করে, গত ২৭ জুলাই সোমবার মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করেন ঢাকা জেলা অপরাধ তদন্ত বিভাগ(সিআইডি)। মামলার বাদী এই তদন্ত প্রতিবেদনের উপর আস্থা হারিয়ে
ন্যায় চেয়ে আবেদন দাখিল করেন। বিজ্ঞ আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শুনানীর দিন ধার্য করেন।
মামলার বাদী মাহবুবুর রহমান টিপু জানান, নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নে দূর্গাপুর মৌজায় বাদীর পিতার নিকট আত্বীয়-স্বজন প্রতারণামূলক জাল-জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে স্বাক্ষর জাল করে নবাবগঞ্জ সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসে ৯০ শতাংশ বাড়ির সাফ কবলা দলিল নং- ৪৫৩৮,তাং- ২৩/৮/১৯৮২ খ্রি. সৃজন করেন।অভিযুক্তরা হলেন- নবাবগঞ্জ উপজেলার চুড়াইন ইউনিয়নের দূর্গাপুর গ্রামের মৃত.রফিক উদ্দিনের ছেলে শেখ মো.রাশেদুল ইসলাম (৪৯),মো.মিজানুর রহমান সোহেল(৪৩),কন্যা পুষ্প আক্তার(৫১), আফরোজা আক্তার ইতি(৪৮), রোকেয়া ইসলাম স্মৃতি(৪৪),রাবেয়া সুলতানা(৪০), ও রফিক উদ্দিনের স্ত্রী সুফিয়া ইসলাম(৭৫) ও কামারখোলা গ্রামের মৃত.মোবারক আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম(৭৬)।
গত বছরের ১৮ ফেব্রয়ারি আদালতে দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিত্বে ঢাকা জেলা সিআইডিকে তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। এস আই মো.আইযুব আলী,বিপি-নং ৬৯৮৯০১৫৫৫৫৬ ও এস আই দিগন্ত দাস,বিপি নং- ৯২২১২৩৭৮১৬ আদালতে একটি মনগড়া তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। সেই তদন্ত প্রতিবেদনে ৬ জন সাক্ষীর ১৬১ ধারায় জবানবন্দিতে মিথ্যা ও গদবাধানো বর্ননা দেন। প্রকাশ থাকে যে, ৬ জন স্বাক্ষীর মধ্যে ৫ জন স্বাক্ষীর সাথে যোগাযোগ না করেই তাদের ১৬১ ধারায় জবানবন্দি দেখান তদন্তকারী কর্মকর্তাগন।তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েই মামলার বাদী স্বাক্ষীর জবানবন্দি দেওয়া নকল উত্তোলন করে তাৎক্ষনিক স্বাক্ষীদের সাথে যোগাযোগ করলে স্বাক্ষীরা হতভাগ হয়ে পড়েন। তারা বলেন তদপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে কোন সাক্ষাৎ হয় নাই। এছাড়াও তারা কোন জবানবন্দি দেন নাই। তাহলে এমন প্রতিবেদনে মামলার বাদী হতাশ হয়ে পড়েন। ন্যায় বিচারে বড় বাধাঁ নানা অনিয়ম,দীর্ধসুত্রতা ও গাফলতিতে বাদীর অপূরনীয় ক্ষতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে।
বাদী আরও বলেন, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাগন বিবাদীর সাথে সখ্যতা তৈরী করে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেন।প্রতিবেদনের তদন্ত কর্মকর্তাগনকে বাদীর একাধিক গুরুত্বপূর্ন স্বাক্ষীদের ১৬১ জবানবন্দি রেকর্ডে নিয়েও তা প্রতিবেদনে প্রকাশ করেন নি। এতে প্রাথমিক প্রমানিত হয় যে, অভিযুক্তদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা ও লেনদেনের সখ্যতা তৈরী করে মনগড়া প্রতিবেদন সাজিয়ে আদালতে জমা দেন।
এ বিষয়ে সি-আর (জাল-জালিয়াতি) ১৯৬/২০২৫ মামলায় বাদীর আইনজীবি মো.শফিকুল ইসলাম জানান, বিজ্ঞ আদালত আবেদন মঞ্জুর করে শুনানীর দিন ধার্য করেছেন। তিনি আরও বলেন, আদালত ন্যায় বিচারের স্বার্থে পুন:তদন্তের দায়িত্ব অপর একাধিক সংস্থাকে দিতে পারবেন। আর এভাবেই ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা পায়।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. আইযুব আলীর কাছে জানতে তার মোবাইল ফোনে ০১৭১৭৩৬২৮৭০ যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি বর্তমানে বদলীজনীত কারনে অন্যত্র আছি। এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো না।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিগন্ত দাসের কাছে জানতে তার মোবাইল ফোনে ০১৬২৩৯১১৭৪১ যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, আমি এ বিষয়ে কথা বলতে পারবো না।
