নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় সর্দি-জ্বর ও কাশি নিয়ে মারা যাওয়া সেই রিকসা চালক করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ছিলেন না। তবে তাকে দাফন করা হয়েছে সরকারের নির্ধারিত রাজধানীর খিলগাঁও তালতলা কবরস্থানে করোনা ভাইরাসে নিহত হওয়া লাশের পাশে।
সরকারের রোগতত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) তাঁর নমুনা পরীক্ষা করে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পরীক্ষায় তার ফুসফুসে মারাত্মকভাবে ক্ষতি হয়ে নিউমোনিয়া হয় মারা যান।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, ওই রিকসাচালকের পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুইদিন ধরে নবাবগঞ্জের ৫৮বছর বয়সী ঐ রিকসাচালক সর্দি-জ্বর ও কাশিতে ভুগছিলেন। গত সোমবার থেকে তাঁর শ্বাস কষ্ট শুরু হয়। গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে সোমবার দুপুরে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই রিকসাচালককে আনেন তাল স্বজনরা। তার মুমূর্ষু অবস্থা দেখে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তাকে রাজধানী ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সেখানকার আইসোলশনে থাকা অবস্থায় সোমবার রাতে তার মৃত্যু হয়। পরে করোনা ভাইরাস উপসর্গ ভেবে নমুনা পরীক্ষা করা হলে জানা যায় সে অন্যরোগী ছিলেন।
ওই রিকসা চালকের ছেলে বলেন, তাঁর বাবা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে নবাবগঞ্জ উপজেলার স্বাস্থ্যকমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। হাসপাতাল কতৃপক্ষ বাবাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন রাজধানী ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, গত সোমবার সকালে ঐ রোগীর স্বজনরা তাকে সর্দি-জ্বরে আক্রান্ত অবস্থায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে আসে। তার মুমূর্ষু অবস্থা দেখে আমরা তাকে রাজধানী ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে রেফার্ড করি। তিনি আরও বলেন, রোগী বেশ কয়েকদিন যাবত এক প্রবাসীর সাথে চলাফেরা করেছে এমন তথ্যও আমাদের কাছে রয়েছে সেই হিসেবে প্রাথমিক ভাবে করোনার উপসর্গ বলে আমাদের মনে হয়েছিলো। তিনি আরও বলেন, ওই রিকসা চালক কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার বিকেলে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর পরীক্ষার জন্য নমুনা আইইডিসিআরে পাঠানো হয়। নমুনার পরীক্ষার পর গতমঙ্গলবার রাতে আইইডিসিআর জানায়, পরীক্ষার ফলাফল নেতিবাচক ( নেগেটিভ) এসেছে। ওই রিকসাচালক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাননি। ঐ রিকসাচালক মৃত্যুর পর গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে পুরো গ্রাম লকডাউন ঘোষণা করে উপজেলা প্রশাসন। একই সঙ্গে ওই রিকসাচালকের পরিবারের সদস্যদের কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে আজ বুধবার সকালে লকডাউন প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সালাউদ্দিন মনজু’র বলেন, ওই রিকসাচালক কোভিড-১৯ রোগী ছিলেন না। তাই লকডাউন তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই পরিবারের সদস্যরা আপাতত হোম কোয়ারেন্টিনেই থাকবেন।
