মুন্সীগঞ্জে নৌপথে অতিরিক্ত চার্জ ও হয়রানির প্রতিবাদে বাল্কহেড মালিকদের মানববন্ধন

এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী( মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জে নৌপথে অতিরিক্ত বার্দিং চার্জ, জাহাজের দৈনিক অবস্থান ও রক্ষণাবেক্ষণ ফি প্রত্যাহার, নিরাপদ নৌপথ নিশ্চিত এবং পরিবহন ব্যবসায়ীদের হয়রানি বন্ধসহ আট দফা দাবিতে মানববন্ধন করেছে বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থা।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ও বাল্কহেড মালিকদের ৫০ জন সদস্য অংশ নেন।

তারা মানববন্ধনে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) কর্তৃক আরোপিত অতিরিক্ত বার্দিং চার্জ এবং জাহাজের দৈনিক অবস্থান ও রক্ষণাবেক্ষণ ফি ব্যবসায়ীদের ওপর অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে। পাশাপাশি সামান্য ত্রুটিতেই দণ্ডবিধির ২৮০ ধারাসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ বাল্কহেড মালিক পরিবহন সংস্থা’র সভাপতি মো. বোরহান মিয়া বুলু’র সভাপতিত্বে এ সময় বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ বাল্কহেড পরিবহন সংস্থা’র উপদেষ্টা মো. সিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ নৌপরিবহন শ্রমিক ফেডারেল সাধারণ সম্পাদক মো. আনিছ মাস্টার, সহ-সভাপতি মাহমুদ হোসেন, বাংলাদেশ লঞ্চ লেবার এসোসিয়েশন বাল্কহেড শাখার সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ।

বক্তারা আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন নৌপথে বিপজ্জনক ডুবোচর অপসারণে নিয়মিত ড্রেজিং না হওয়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। চর ইজারাদারদের ইচ্ছামতো বালুর দাম বৃদ্ধি, ঘাটে ঘাটে অবৈধ টোল আদায় এবং সন্ত্রাসী বাহিনীর চাঁদাবাজির কারণে নৌপরিবহন খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে— অতিরিক্ত চার্জ ও ফি অবিলম্বে প্রত্যাহার, নৌপথে নিয়মিত ড্রেজিং ও নিরাপদ নাব্যতা নিশ্চিত করা, হয়রানিমূলক মামলা বন্ধ, “এক জেলায় একবার যাচাই” নীতি চালু, সকল নৌ-সংক্রান্ত মামলার বিচার বিশেষায়িত নৌ-আদালতে সম্পন্ন করা, প্রকৃত পরিমাপের ভিত্তিতে ৫০ থেকে ৫৫ মিটার দৈর্ঘ্যের বাল্কহেডের নকশা অনুমোদন এবং ঝুঁকিপূর্ণ নৌরুটে রাত্রিকালীন চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার।

মানববন্ধন বক্তারা আরও বলেন, দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে দেশের নৌপথে পণ্য পরিবহন ব্যাহত হবে এবং বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। একই সঙ্গে বাল্কহেড পরিচালনার নিরাপদ, সুষ্ঠু ও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *