সিরাজদিখানে ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যুবলীগ নেতা মুন্নার দল পরিবর্তন

মুন্সিগঞ্জ,প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ক্ষমতার পালাবদলের সঙ্গে সঙ্গে যুবলীগ নেতা মঈনুল হাসান মুন্নার রাজনৈতিক দল পরিবর্তনের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্টেও তিনি হাতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্র-জনতার বিপক্ষে মিছিলে অংশ নেন। তবে পরবর্তীতে পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিএনপির ছায়াতলে গিয়ে সক্রিয় হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মৃত আজাদ হোসেন নান্নুর বড় ছেলে মঈনুল হাসান মুন্না (৩৬) তার চাচা মুন্সিগঞ্জ জেলা পরিষদ সদস্য ও সিরাজদিখান উপজেলা আওয়ামী লীগের মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক আলী আহমেদ বাচ্চুর নেতৃত্বে এলাকায় অবৈধ মাদক ব্যবসা ও ড্রেজিং বাণিজ্য গড়ে তোলেন। ৫ আগস্টের পর আওয়ামী লীগের পতনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি দল পরিবর্তন করে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বর্তমানে তিনি স্থানীয় এক বিএনপি নেতার ছায়াতলে থেকে তার পূর্বের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন বলে এলাকাবাসীর দাবি।

এদিকে সম্প্রতি সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইল ইউনিয়নের পশ্চিম ব্রজেরহাটি স’মিল থেকে কোলা ইউনিয়নের থরিগাঁও পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার সড়ক কার্পেটিং কাজ শুরু হয়। অভিযোগ রয়েছে, কাজ শুরুর পর থেকেই প্রভাব খাটিয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ভয়ভীতি দেখিয়ে রাস্তার গাইড ওয়াল নির্মাণ কাজটি নিজের নিয়ন্ত্রণে নেন মুন্না।

কাজ পাওয়ার পর থেকেই তিনি নানা অনিয়ম শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত মান অনুযায়ী ইট ও পাথর ব্যবহার না করে নিম্নমানের ইট ও পাথরের পরিবর্তে কংক্রিট দিয়ে কাজ করা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।

উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে নির্মাণসামগ্রী পরিবর্তনের নির্দেশ দিলেও তাতে কোনো কার্যকর ফল পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, উপজেলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতা-কর্মী জেল-হাজতে থাকলেও এই চাচা-ভাতিজা এখনো এলাকায় দাপটের সঙ্গে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আওয়ামী লীগ আমলে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ থাকলেও সাম্প্রতিক ছাত্র হত্যা মামলাতেও তাদের নাম না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় বিএনপির প্রভাব খাটিয়ে সব কিছুই তারা ম্যানেজ করে নিয়েছেন। ফলে আইনের আওতার বাইরে থেকেই তারা তাদের কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিছু বিএনপি নেতা-কর্মীকে নিজেদের মধ্যে রেখে এখনো চাচা-ভাতিজা এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে যাচ্ছেন।

এবিষয় যুবলীগ নেতা মঈনুল ইসলাম মুন্না সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন , আমি কোন রাজনৈতিক দলের সাথে সংযুক্ত না আর ছিলাম ও না। এবং কোন রাজনৈতিক দলের মিটিং মিছিলে ও কখনো যাইনি অবৈধ কোন ব্যবসার সাথে ও জরিত না।

এবিষয় সিরাজদিখান উপজেলা বিএনপির সেক্রেটারি এম হায়দার আলির মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *