এমএ কাইয়ুম মাইজভাণ্ডারী (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় শরবত ও মিষ্টির সঙ্গে বিষ খাইয়ে এক তরুণকে হত্যার অভিযোগে ওই তরুণের প্রেমিকা ও প্রেমিকার মাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়। রোববার তাদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়। নিহত ওই তরুণের নাম ইব্রাহিম ওরফে রাফি (২০)। তিনি শ্রীনগরের সেলামতি বানিয়াবাড়ী এলাকার শাজাহান মোড়লের ছেলে। ইব্রাহীম শ্রীনগর বাজারের একটি কাপড়ের দোকানে বিক্রয় কর্মীর কাজ করতেন।
গত মঙ্গলবার ইব্রাহীমকে বিষ খাওয়ানো হয়। শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাযান ইব্রাহীম। এ ঘটনায় শনিবার দিবাগত রাতে শ্রীনগর থানায় নিহতের বাবা শাজাহান মোড়ল বাদি হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই রাতেই অভিযুক্ত ময়না বেগম (৪৫) ও তাঁর মেয়ে (১৬) কে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মামলার এজহার ও স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, শ্রীনগরের পশ্চিম দেউলভোগ এলাকার ময়না বেগমের মেয়ের সঙ্গে দুবছর ধরে ইব্রাহীমের প্রেমের সম্পর্ক চলতছিল। প্রেমের সম্পর্কের কারনে বিভিন্ন সময়ে ইব্রাহীমের কাছ থেকে কৌশলে টাকা পয়সা নিত।
৩-৪ মাস আগে ময়না বেগমের মেয়ে ইব্রাহীমের কাছ থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং ইব্রাহীমকে দিয়ে ব্র্যাক এনজিও থেকে আরও ৪০ হাজার টাকা ঋন উঠান। সে ঋণের টাকা ময়না বেগমরা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো। টাকা পরিশোধের কিস্তির সময় হলে ময়না বেগমরা টাকা পরিশোধ করছিলেন না।
এ নিয়ে ময়না বেগমের মেয়ের সঙ্গে ইব্রাহীমের মুঠোফোনে ঝগড়া হয়। গত মঙ্গলবার বিকেলে ময়না বেগম ইব্রাহীমের মুঠোফোনে ফোন করে টাকা পরিশোধ ও তাঁর মেয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।সেদিন ঋণের কিস্তির টাকা নেওয়ার জন্য ময়না বেগম তাঁর পশ্চিম দেউলভোগের বাড়িতে ডেকে নেন ইব্রাহীমকে।
স্মৃতি আরো বলেন,আমার ভাইয়ের কাছ থেকে টাকা পয়সা নেওয়ার জন্য ময়না তার মেয়েকে দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক করিয়েছিল।আমার যখন। বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা পয়সা ফেরত চাইলো তখন ওকে খাবারের সঙ্গে বিষ দিয়ে হত্যা করলো।আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাকিল আহমেদ রোববার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে বলেন, শনিবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে হত্যা মামলা হয়।মামলার পরেই অভিযুক্ত দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রোববার দুপুরে তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়। জিঙ্গাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।আসামিরা বর্তমানে জেলহাজতে রয়েছেন।
