নিজস্ব প্রতিবেদক: দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে সোহাগ খান(২৩) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার আটটার দিকে দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে নিহতের লাশটি উদ্ধার করলেন পুলিশ। নিহতের স্বজনদের দাবী শালিকা ও দুলাভাইয়ের পরকীয়া দেখে ফেলায় স্বামীকে হত্যা করেছে তার স্ত্রী মুন আক্তার ও দুলাভাই রিফাত ।
নিহতের নাম সোহাগ খান (২৩)।সে মানিকগঞ্জ জেলার সদর থানার আড়মারা গ্রামের পলাশ খানের ছেলে।তার শশুরবাড়ি দোহার উপজেলার মুকসুদপুর ইঊনিয়নের শান্তিনগর ফুলতলা গ্রামের শেখ আব্দুল মান্নান।নিহত সোহাগ গত তিনদিন আগে তার শশুরবাড়িতে বেড়াতে আসেন। নিহতের মামা আনোয়ার হোসেন জানান, গত ডিসেম্বর-২০২১ সালে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় ঘটে শেখ আব্দুল মান্নানের ছোট মেয়ে মুন আক্তারের(১৮) সাথে।
এরপর পরিবারের সম্মতিতে গত তিনমাস আগে সোহাগ খান ও মুন আক্তারের বিয়ে হয়। সোহাগ একটি বেসরকারী কোম্পানীতে প্রাইভেটকার চালক। বিয়ের সময়ে মুন আক্তারের বড় বোন সাদিয়া আক্তারের জামাই রিফাত হোসেন বাধাঁ দেন বিয়েতে।একপর্যায়ে বিয়ে নিয়ে ঝগড়া করেন সোহাগ খান ও তার পরিবারের সাথে।এ সময়ে রিফাত হুমকি দেন এ বিয়ে তিনি মেনে নিবেন না এবং মুনকে সংসার করতে দিবেন না।
নিহতের মা আন্না বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান,সোমবার সন্ধ্যার দিকে তার একমাত্র ছেলে সোহাগের স্ত্রী মুন মোবাইল ফোনে জানান,তার ছেলের অবস্থা ভালো নয়।দ্রুত দোহার উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আসতে বলেন।সংবাদ পেয়ে গাড়ী ভাড়া করে এসে দেখেন তার ছেলে হাসপাতালে লাশ হয়ে পড়ে রয়েছেন।আমি এই হত্যার বিচার চাই। এ বিষয়ে হাসপাতালে আসা নিহতের শাশুড়ী সাজেদা বেগমের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আজ বিকালে মেয়ের জামাই সোহাগকে খেতে বললে তিনি গোসল সেরে আসবেন বলে গোসলখানায় যান।
একপর্যায়ে কোন সাড়া শব্দ না পেলে গোসলখানার দরজা ভেঙ্গে দেখেন তার মেয়ের জামাই জানালার লোহার গ্রীলের সাথে গলায় ওড়না পেচিয়ে আত্মহত্যা করেছে।কেন আত্মহত্যা করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,আমার বড় মেয়ের জামাই তার শালিকার সাথে কথা বলায় সোহাগ অভিমান করে এমন কাজটি করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুন আক্তারের সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজি হন নি এবং একপর্যায়ে হাসপাতাল থেকে সরে পড়েন।
এ বিষয়ে দোহার থানার এস আই শফি উল্লাহ বলেন,সংবাদ পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।মৃত্যুর প্রকৃত কারন জানতে লাশ মর্গে প্রেরণ করা হবে।যতদুর জেনেছি নিহতের শশুরবাড়ির লোকজন জানিয়েছেন,শালিকা-দুলাভাই মোবাইল ফোনে কথা বলছিলো ।এতে অভিমান করে আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্তের রির্পোট আসলে প্রকৃত কারণ যানা যাবে।
