নিজস্ব প্রতিবেদক: ঢাকার দোহারে মাদক বেঁচাকেনায় বাঁধা দেয়ায় দোহার উপজেলা ছাত্রলীগের দপ্তর স¤পাদক রায়হান মজিবকে (২০) দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ ঘটনায় আরিফুল ইসলাম আরিফ নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার মুকসুদপুর ইউনিয়নের বানিয়া বাড়ি এলাকায় এঘটনা ঘটে। আহত রায়হান সৌদি প্রবাসী আওলাদ হোসেনের একমাত্র ছেলে।
আহত রায়হানের মা রানু বেগম বলেন, বুধবার সাড়াদিন গরম ছিলো বিধায় সন্ধ্যার দিকে আমার ছেলে বাড়ির সামনের রাস্তায় হাটাহাটি করতে যায়। এক পর্যায়ে রাস্তার পাশে খালি যায়গায় বসে মোবাইল চালাতে থাকে। এসময় পূর্বে থেকে ওত পেতে থাকা স্থানীয় আনোয়ার হোসেনের দুই ছেলে মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী রফিক (২৯) ও আরিফুর রহমান আরিফ (২৪) দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আমার ছেলেকে হত্যার উদ্দেশ্যে অতর্কিত হামলা করে কুপিয়ে আহত করে। বর্তমানে সে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি আছে। আমি আমার ছেলেকে যারা কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে তাদের বিচার চাই। এঘটনায় থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
আহত রায়হানের চাচা সোহেল রানা জানান, গত কয়েক মাস আগে রমজান মাসে আমার ভাতিজা মাদক ব্যবসায়ী স্থানীয় রফিক ও আরিফকে মাদক বিক্রি করতে নিষেধ করেন। তখন এ নিয়ে তারা আমার ভাতিজার সাথে খারাপ ব্যবহার করে গালিগালাজ করে এবং কথাকাটি করে। তারই পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার সন্ধ্যায় রায়হানকে মেরে ফেলার চেষ্টা করে। আমরা এর বিচার চাই।
এঘটনায় স্থানীয় এক যুবক জানান, মাদকের প্রতিবাদ করলে যদি এভাবে মার খেতে হয় তাহলে আমরা কিভাবে মাদকের প্রতিবাদ করবো। সবারইতো জীবন হারানোয় ভয় আছে। এভাবে চলতে থাকলে এই যুবসমাজ শেষ হয়ে যাবে। আজ রায়হানকে হত্যার চেষ্টা করেছে। কাল আমি যদি প্রতিবাদ করি আমাকেও যে হত্যার চেষ্টা করবে না তার কোন গ্যারান্টি নেই। আমরা এঘটনায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছি। সেই সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।
ছাত্রলীগের উপর এমন বর্বর সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ঢাকা জেলা দক্ষিন ছাত্রলীগের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন সোহাগ বলেন, ছাত্রলীগ সমাজে অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে জীবন নাশের মত ঘটনা ঘটবে এটা কাম্য নয়। মাদক ব্যবসায়ীরা দেশ ও সমাজের শত্রু। তাদেরকে অবশ্যই শক্ত হাতে নির্মুল করতে হবে। তিনি আরও বলেন, ছাত্রলীগের একজন কর্মীর উপর এমন সন্ত্রাসী হামলায় আমি তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে ঘটনার সাথে জড়িত সকলকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি করছি।
এব্যাপাওে দোহার থানার তদন্ত কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান জানান, এ ঘটনায় দোহার থানায় ৬ জনকে আসামি করে একটি মামলা হয়েছে। ইতোমধ্যে আরিফ নামে একজনকে আটক করা হয়েছে। অন্যরা পলাতক রয়েছে। শীঘ্রই তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
