দোহারে প্রশাসনের নামে বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ইউপি মেম্বারের টাকা আদায়

কাজী জোবায়ের আহমেদ : দোহার উপজেলা ও থানা প্রশাসনের নামে এক বালু ব্যবসায়ীর কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে নয়াবাড়ি ইউপি সদস্য আরব আলীর বিরুদ্ধে। অথচ বালু ব্যবসার অনুমতি দেয়ার নামে কোনো প্রকার টাকা পায়নি উপজেলা প্রশাসন।

জানা যায়, উপজেলার মাহমুদপুরের মৈনটঘাট এলাকায় প্রশাসনের কোনো প্রকার অনুমতি ছাড়া বালুর স্তূপ করে দোহারের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করেন ফরিদপুরের বাসিন্দা মো. মাহাতাব হোসেন। আর ব্যবসায় তাকে সহায়তা করেন ইউপি সদস্য আরব আলী।

বালু ব্যবসায়ী মাহাতাব হোসেন জানান, দীর্ঘদিন ধরে দোহারে বালু ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি। এখানে পরিচিত কেউ না থাকায় ইউপি সদস্য আরব আলীর সহযোগিতায় ব্যবসা পরিচালনা করেন তিনি। দোহার উপজেলা ও থানা প্রশাসনকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে মৈনট ঘাটে ব্যবসা পরিচালনা করেন বলে জানান মাহাতাব হোসেন। তিনি বলেন, কোথায় কী দিতে হবে, আরব আলী আমাকে বলে আমি দিয়ে দেই। প্রতিমাসে চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা করে উপজেলা, থানা ও ফাঁড়িতে দিতে হয়।

প্রশাসন আরব আলীর কাছ থেকে কোনো টাকা পায়নি এমন প্রশ্নে মাহাতাব হোসেন বলেন, না দিলে এটা আরব আলী ভালো জানে।
স্থানীয়রা জানান ড্রেজার ব্যবসা ও সরকারি জমি দখলের বিষয়ে আরব আলীর বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তারা জানান, এর আগে চাঁদা তোলার বিষয়ে তার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এছাড়া সরকরি জমি দখল করে আত্মীয়দের মাঝে বন্টেেনর সুস্পষ্ট প্রমাণ থাকলেও এখনো কোনো ব্যবস্থা নেইনি প্রশাসন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নয়াবাড়ি ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন জানান, আরব আলীর বিষয়ে খতিয়ে দেখলে জমি দখল থেকে শুরু করে আরও অনেক অভিযোগ পাওয়া যাবে। প্রশাসন যদি আরব আলীর বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করেন তবে কয়েক বছর পর সে আরও ভয়ানক হয়ে পরবে।

অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আরব আলী বলেন, আমি মাহাতাবের কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। তার কাছে আমি ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করেছি, সেই টাকা নেই। প্রশাসনের জন্য আমি কোনো টাকা নেইনি।
এ ব্যাপারে দোহার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল বলেন, আমি এখানে নতুন এসেছি। অনেক কিছুই জানিনা খোঁজ নিয়ে সত্যতা পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে দোহার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এএফএম ফিরোজ মাহমুদ বলেন, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। প্রশাসনের নামে কেউ টাকা নিয়ে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *