কাজী জোবায়ের আহমেদ: ‘ভাই বাদাম লাগবো নি” ও ভাই বাদাম লাগবো’ প্রতিদিন এভাবেই মানুষকে ডেকে বেড়ায় আহাদ। বয়স মাত্র আট বছর। আহাদের সাথে কথা বলে জানা যায় তার বাবার নাম আলাল মাদবর। জীবিকার টানে গত বছরের শেষের দিকে ঢাকার দোহার উপজেলার চর জয়পাড়া এলাকায় একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন আহাদের বাবা আলাল। সেখানেই একটি টেইলার্সের দোকানে কাজ করতেন সে। আর আহাদ পরাশোনা করতো দোহারের নূর শিশু একাডেমিতে ২য় শ্রেনীতে। করোনা ভাইরানের প্রাদূর্ভাবের পর থেকে অনেকটা বেকার হয়ে পরেন আহাদের বাবা। স্কুল বন্ধ থাকায় পড়ালেখা বন্ধ হয়ে যায় আহাদের। এদিকে সংসারের টানাপূরেনের কারনে তিন বেলা খাবার জোগার করতেই হিমশিম খেতে হয় আহাদের পরিবারের। তাই কোন উপায় না পেয়ে আহাদ বাধ্য হয়েই বাদাম হাতে নিয়ে বেড়িয়ে পরে দোহারের বিভিন্ন স্থানে।
আহাদ জানায়, প্রতিদিন সকালে তার মা জান্নাতি বেগম চুলায় বাদাম ভেজে প্যাকেটিং করে প্রস্তুত করে দেয়। আর এই কাজে মাকে সাহায্য করে আহাদ। এরপর উপজেলার প্রাণকেন্দ্র জয়পাড়া বাজার,কলেজ মোড়,থানার মোড় এলাকাতেই ঘুরে ঘুরে বাদাম বিক্রি করে সে।
আহাদ আরো জানায়, সারাদিন হেটে হেটে কোনদিন ৪শ আবার কোনদিন ৫ শত টাকার বাদাম বিক্রি করে বাড়িতে গিয়ে মায়ের হাতে তুলে দেয় সেই টাকা। আহাদের স্বপ্ন লেখাপড়া করে একদিন অনেক বড় হয়ে সংসারের হাল ধরে বাবা মায়ের কষ্ট দূর করবে।
