সিরাজদীখানে সাংবাদিক ও ৮মাসের অন্তঃসত্তা নারীসহ ১৫জনতে পিটিয়ে আহত করল পুলিশ

সিরাজদিখান (মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান (৪২) ও ৮মাসের অন্তঃসত্তা নারী মুনজুরা আক্তার (২৪) সহ প্রায় ১৫জনকে পিটিয়ে আহত করেছেন পুলিশের সদস্যরা। উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের পূর্ব চান্দেরচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে  বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরে সকাল ১০টার দিকে চান্দেরচর গ্রামে নিজ বাড়িতে থাকা সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমানকে সিরাজদীখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজাহিদুল ইসলাম ফোন করে বাড়ি থেকে আসতে বলে। সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান বাড়ি থেকে রাস্তায় আসলে সিরাজদীখান থানার এসআই লোকমান,এএসআই ফরিদসহ ৪-৫জন পুলিশ সদস্য তাকে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসে। অন্যদিকে ৮মাসের অন্তঃসত্তা নারী মুনজুরা আক্তার (২৪), গুলেনুর বেগম (৩০), সেলিনা বেগম (৪০) এবং শিশু বৃদ্ধসহ ১৫জনকে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা পিটিয়ে আহত করে। পরে অনেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছে।
সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান দৈনিক মানবকণ্ঠের সিরাজদীখান প্রতিনিধি এবং সিরাজদীখান প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি। তিনি উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের চান্দেরচর গ্রামের মৃত আব্দুর রউফ এর ছেলে।

স্থানীয়রা জানায়, পূর্ব চান্দেরচর গ্রামের কামিজুদ্দিন কামু (৬০) ও একই এলাকার কালাইচান মাদব্বরের (৫৫) সমর্থকদের মধ্যে ফসলি জমির মাটি কাটার টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে আজ (বুধবার) সকাল ৬টায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় ৯ জন টেটাবিদ্ধসহ অন্তত ২৫জন আহত হয়েছে এবং সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বালুচর ইউপির ২ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আলেক চান সজীব আহত হয়। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ২১ জুন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল, ওই সংঘর্ষেও কয়েক জন টেটাবিদ্ধ হয়।
দৈনিক মানবকণ্ঠেরের সিরাজদীখান প্রতিনিধি সাংবাদিক সালাহউদ্দিন সালমান বলেন, আজ সকালে পূর্ব চান্দেরচর গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সকাল পুনে ৯টার দিকে সিরাজদীখান থানার ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম ফোন করে আমাকে। আমি তখন তাকে (ওসি) বলি আমি বাড়িতে আছি। তখন ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম আমাকে বাড়ি থেকে আসতে বলে। আমি বাড়ি থেকে রাস্তায় আসলে সিরাজদীখান থানার এসআই লোকমান,এএসআই ফরিদসহ ৪-৫জন পুলিশ সদস্যরা পিটালে ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম উদ্ধার করে পুলিশ সদস্যদেরকে বলে সালাহউদ্দিন সালমান সাংবাদিক। ওসি মো. মুজাহিদুল ইসলাম একটু দূরে গেলে দ্বিতীয়বার পিটিয়ে আমাকে গুরুতর আহত করে আমার মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। তবে সব থেকে বেশি পিটিয়েছে কনস্টেবল মামুন। আমার কথা হলো সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরেও পুলিশ সদস্যরা কেন মারলো? আমার বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরে। এ বিষয়ে আমি সুষ্ঠু বিচারের দাবি করছি।
গুলেনুর বেগম বলেন, মারামারির ঘটনাস্থল থেকে ১ কিলোমিটার দূরে আমাদের বাড়ি। সেখানে পুলিশ এসে আমাকে মেরে আমার হাত ভেঙে দিয়েছে। আমাদের কি দোষ। মারামারি করেছে তাদেরকে মেরে হাত ভেঙে দেন, তাতে আমাদের কোন দুঃখ নেই। আমরা সেখান থেকে ১ কিলোমিটার দূরে আছি। আমাদের বাড়িতে এসে মারধোর করবে এটা কেমন পুলিশ। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এই পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনানুর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।
৮মাসের অন্তঃসত্তা নারী মুনজুরা আক্তার বলেন, আমি ঘরের ভিতরে শুয়ে ছিলাম, তখন পুলিশ ঘরের ভিতরে গিয়ে আমার ছোট ভাইকে ধরে নিয়ে আসার সময় আমাকে ও আমার মাকে পুরুষ পুলিশ সদস্যরা চড় থাপ্পল লাথি  মেরে আহত করে। আমি ৮ মাসের অন্তঃসত্তা, তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা নিতে এসেছি এবং পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাচ্ছি।
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, ফসলি জমির মাটি কাটার টাকা ভাগ-বাঁটোয়ারা আর আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। এ ঘটনায় বেশ কয়েকজন টেটাবিদ্ধ আছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ২৫ রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়েছে এবং ৯জনকে আটক করা হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলার বিষয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, প্রথমে সাংবাদিক সালমানের উপরে পুলিশ সদস্যের লাঠির বাড়ি পড়েছে আমি গিয়ে সাংবাদিক সালমানকে সরিয়ে নিয়ে যাই। পরে আবার শুনি দ্বিতীয়বার ওনারা (সাংবাদিক সালমান) সাথে হাতা হাতির ঘটনা ঘটেছে। এটা অন্তত দুঃখজনক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *