সিংগাইরে ১৫ হাজার কোরবানির গরু প্রস্তুত: দুশ্চিন্তায় খামারীরা

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস: মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় ছোট বড় প্রায় এক হাজার গরুর খামার ও প্রান্তিক কৃষকসহ মৌসুমী ব্যবসায়ীরা প্রায় ১৫-২০ হাজার গরু ছাগল কোরবানীর জন্য প্রস্তুুত করেছেন। আসন্ন ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রতি বছরের ন্যয় এবছরও কোরবানির জন্য এসব গরু প্রস্তুত করেছেন। কিন্তুু  ভাল দাম পাবে কিনা এই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন খামারি,প্রান্তিক কৃষক ও মৌসুমী ব্যবসায়ীরা। সারাদেশে মহামারী করোনা ভাইরাসের কারনে মানুষের আয়ের পথ বন্ধ থাকায়,কোরবানি আগের তুলনায় এ বছর কম হবে বলে অনেকের ধারনা। তাই ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে খামারিদের চিন্তা তত বেড়ে যাচ্ছে।
প্রাণী সম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়,এ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ১ পৌরসভা এলাকায় ২৪৬ টি গ্রামে ৯০ শতাংশ দেশী ষাঁড় গরু ও ১০ শতাংশ শংকর জাতের গরু লালন-পালন করে থাকে।এর মধ্যে ১ হাজার খামারে ৫ হাজার ষাঁড় গরু,বলদ ২০২,গাভী ১১৪,ছাগল ৮৪৪,ভেড়া ৫২টি এছাড়া প্রায় বাড়িতে ১/২ টি গরু ছাগল মোটাতাজা করে থাকে কোরবানীর ঈদে বিক্রি করে একটু বাড়তি লাভের আশায়। তাছাড়া এলাকার খামারিরা,প্রান্তিক কৃষক,মৌসুমী ব্যবসায়ীরা গরু মোটাতাঁজা করে থাকেন প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার দিয়ে। যার দরুন এ এলাকার গরু চাহিদা অনেক বেশি। এ এলাকার গরু দিয়ে স্থানীয়দের কোরবানির চাহিদা মিটিয়ে দেশের বৃহত্তর গাবতলী হাটের চাহিদা মিটিয়ে থাকেন।
এ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা যায়,প্রত্যেক গ্রামে ছোট বড় গরুর খামার রয়েছে। বাড়তি লাভের আশায় অনেক যত্ন সহকারে গরু ছাগল লালন পালন করছে খামারিরা। কিন্তুু খামারিদের চোঁখে মুখে দেখা যায় হতাশার ছাপ। এ এলাকার বায়রা,সিংগাইর,জয়মন্টপ,সিরাজপুর বড় ৪টি গরুর হাটের মধ্যে স্বাস্থ্যে বিধি মেনে খামারিরা গরু বিক্রির জন্য গেলেও ক্রেতার সংখ্যা হাতে গুনা। ফলে ঈদের দিন যত ঘনিয়ে আসছে খামারি,প্রান্তিক কৃষক,মৌসুমী ব্যবসায়ীদের চিন্তার যেন শেষ নেই।
কথা হয় নুরান হায়দার ফার্ম হাউজের মালিক মো.হায়দার আলীর সাথে তিনি “প্রতিদিনের সংবাদ”কে জানান,আমি এ বছর নতুন হিসেবে ৩০ টি ষাঁড় গরু দিয়ে খামার করেছি। একটু বাড়তি লাভের আশায়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারনে দেশের যে অবস্থা তাতে কোরবানী যদি কমে যায়। গরুর চাহিদা কমে যাবে। তাতে লোকসান গুনতে হবে। তাই অনেক চিন্তায় আছি। তাছাড়া খামার থেকে লোকসান হলে আমাদের আগ্রহ হারিয়ে যাবে।
প্রান্তিক কৃষক পৌর এলাকার মো.ফরিদ হোসেন বলেন-অনেক যত্ন সহকারে ২টি দেশী ষাঁড় গরু লালন পালন করেছি বিক্রি করার জন্য। বাড়ি থেকে বিক্রি করার চিন্তা করছি। কিন্তু‘ কোন কাষ্টমার আসছে না। বিক্রি করতে আধও পারব কি না বুঝতে পারছি না। বাজার যদি ভাল না হয়। তাহলে আমার অনেক টাকা লোকসান হয়ে যাবে।
প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডা.মো.ফারুক আহমেদ বলেন-সারা দেশে করোনা ভাইরাসের কারনে সরকারি বিধি মোতাবেক স্বাস্থ্যে বিধি মেনে হাটে গরু বিক্রি করতে পারবে। আমরা খামারিদের অনলাইনে গরু বিক্রির পরামর্শ দিয়েছি। করোনা ও বন্যার কারনে কোরবানি কম হতে পারে। এ এলাকার গরু প্রাকৃতিক ও দানাদার খাবার খাওয়ানোর কারনে ঈদে বিক্রি করতে না পারলেও ঈদের পরে বিক্রি করলেও কোন সমস্যা হবে না। এমনকি দামও পাবে ভাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *