সিংগাইরে পল্লী বিদ্যুতের ভুতুড়ে বিলে দিশেহারা গ্রাহক

মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস(মানিকগঞ্জ): মহামারি করোনা ভাইরাস পরিস্থিতি মোকাবেলায় মার্চ মাসের ১৭ তারিখে সারা দেশে অফিস আদালত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেন সরকার। এমনকি এরই মধ্যে সারা দেশ অঘোষিত লকডাউন চলতে থাকে। যার কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান,দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। কর্মজীবী মানুষ গুলি হয়ে যায় কর্মহীন। এরই মধ্যে মানিকগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি সিংগাইর জোনাল অফিসে দায়িত্বরত কর্মকর্তা কর্মচারিরা মার্চ ও এপ্রিলে অফিসে বসে মনগড়া ভূতোরে বিদ্যুৎ বিল তৈরি করে। এতে আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিটারের গ্রাহকরা ভোগান্তির শিকার হয়ে দিশেহারা। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এ কর্মকান্ড দেখার যেন কেউ নেই। এ যেন মরার ওপর খাড়ার ঘা।
সরেজমিনে ঘুরে জানা যায়,পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের মাসিক বিদ্যুৎ বিল যেন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। গ্রাহকরা অভিযোগ করে বলেন,পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন বাড়িতে ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের না গিয়ে মিটারের রিডিং অফিসে বসে মার্চ ও এপ্রিলের ভুতুড়ে বিল তৈরি করেছে। আবার দু,মাসের বিল একত্রে বাড়িতে গিয়ে পৌছে দিয়েছে। এতে অনেক অজ্ঞ গ্রাহক মার্চ ও এপ্রিল মাসের রিডিং না মিলিয়ে অতিরিক্ত বিল দিচ্ছে । এ ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাহকদের।
অপরদিকে,উপজেলার প্রত্যেক বাজারে এপ্রিল মাস ঔষধের দোকান ছাড়া সমস্ত দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে কোনো বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়নি। তাই নুন্যতম বিল আসার কথা থাকলেও এপ্রিল মাসে অস্বাভাবিক বিল আসায় এ উপজেলার পল্লী বিদ্যুতের গ্রাহকরা পড়েছে ভোগান্তি ও বিপাকে।
সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জে বাণিজ্যিক ও আবাসিক প্রায় লক্ষাধিক মিটার রয়েছে। এর অধিকাংশ মিটারের মনগড়া বিল তৈরি করা হয়েছে। প্রতিটি বিলে স্বাভাবিক বিলের তিনগুন ধরে বিল তৈরি করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এমনকি বিলের কাগজ নিয়ে অফিসে গেলে নানা তাল-বাহানা করে গ্রাহকদের হয়রানি করছে এবং বিভিন্ন টেবিলে ঘুরতে ঘুরতে অস্থির হয়ে কোন কাজ না হয়ে বাড়ি ফিরছে অনেকে।
গ্রাহকদের অভিযোগে জানা যায়,সিংগাইর পৌর এলাকায় সিংগাইর বাসষ্ট্যান্ডে এপ্রিল মাসে মো. সিরাজুল ইসলামের দোকানে বাণিজ্যিক মিটার যার হিসাব নং-০৩-৬১৯-২৩৮০ তে ১৫৩৪ টাকা, মিটার হিসাব নং-০৩-৬১৯-২৪০৫ তে ৫৮২৩ টাকা, মো.সানোয়ার হোসেনে হিসাব নং-০৩-২১৩-২৮৮৮তে ৯৯৩ টাকা বিল ধরা হয়েছে। ওই মাসে লকডাইনের কারনে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। কিন্তু এ বিল কিভাবে আসলো জনমনের যতপ্রশ্ন।
ডিজিএম মাহাবুবুর রহমান বাড়তি বিলের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন- এপ্রিল মাসে যে সমস্ত গ্রাহকের বিদ্যুৎ বিল বাড়তি এসেছে পরবর্তী মাসে তাদের বিদ্যুৎ বিল কম করে সমন্বয় করা হবে। পাশাপাশি করোনার কারণে বিদ্যুৎ বিলের জরিমানা মওকুফ করা হয়েছে। যাতে কোন গ্রাহক কোনো ক্রমেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে হয়রানি শিকার না হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *