সিংগাইরে জনপ্রতিনিধিরা আত্মগোপনে, নাগরিক সেবা ব্যাহত

সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)প্রতিনিধি : বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তোপের মুখে আওয়ামীলীগ সরকারের পতনের পর মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান,ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র,কাউন্সিলর ও বেশীরভাগ ইউপি চেয়ারম্যানসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ আত্মগোপনে চলে যান । এতে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও ওয়ার্ডের নাগরিক সেবা ব্যাহত হচ্ছে । ফলে, চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সেবা গ্রহীতারা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার ১১ টি ইউনিয়নের মধ্যে সদর ইউনিয়ন ছাড়া বাকি সবগুলো ইউপি চেয়ারম্যানই আওয়ামীলীগ সমর্থিত ।

এর মধ্যে বলধারা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মাজেদ খান পদত্যাগ করে সদ্য সমাপ্ত উপজেলা নির্বাচনে অংশ নেন । ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্যানেল চেয়ারম্যান মো.হযরত আলী। শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের পর থেকে গা ঢাকা দেয়া ইউপি চেয়ারম্যানদের তালিকায় রয়েছেন – মো. রমজান আলী, দেওয়ান জিন্নাহ লাঠু,শেখ জাহিদুল ইসলাম ভূইয়া, ইঞ্জি: শাহাদৎ হোসেন, দেওয়ান মো. রিপন, গাজী কামরুজ্জান, শওকত হোসেন বাদল,আবুল হোসেন ও আব্দুল হালিম । এসব জনপ্রতিনিধিরা পরিষদে না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে নাগরিক ও চারিত্রিক সনদ,জন্মনিবন্ধন,মৃত্যুসনদ,ওয়ারিশান সনদ,নামের প্রত্যয়ন,বাসাবাড়ির নকশা অনুমোদনসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা কার্যক্রম । বেশীরভাগ ইউনিয়ন পরিষদের একাধিক সেবাগ্রহীতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পরিষদে চেয়ারম্যান না থাকায় নাগরিক সেবা নিয়ে তারা বিপাকে পড়েছেন ।

এ জনদুর্ভোগ নিরসনে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের দ্রুত কার্যালয়ে ফেরার দাবী জানান তারা । বায়রা ইউপি চেয়ারম্যান দেওয়ান জিন্নাহ লাঠু বলেন,গর্ভনমেন্ট যেদিন থেকে বলবে সেদিন থেকে অফিস করব,চান্দহর ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন বাদল বলেন,দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির জন্য গত এক সপ্তাহ অফিস করা হয়নি। ইউএনও স্যারের সাথে কথা হয়েছে রোববার থেকে অফিস করব। এ ব্যাপারে সিংগাইর উপজেলা নির্বাহী অফিসার পলাশ কুমার বসু বলেন,জনপ্রতিনিধিদের নিয়মিত অফিস করার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে । তারা অফিস না করলে উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবগত করা হবে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *