নিজস্ব প্রতিবেদক: মানুষ বাঁচে তার কর্মে কিন্তু রিলিশন নামটি অনেক বেশি গুরুত্ব পূর্ণ। মানুষ রিলিশনের খাতিরে অনেক কিছু করতে পারে। একটি নারী যেমন একজন পুরুষের সাথে বসবাস করে ঠিক তেমনি একজন পুরুষও একজন নারীর সাথে একই ছাদের নীচে থাকে। এর একমাত্র কারণ রিলিশন। তাই এককথায় আমি বলতে চাই রিলিশন নামটি অনেক বেশি শক্তিশালী। বুধবার সকালে মুন্সিগঞ্জ জেলার শ্রীনগর উপজেলার খাহ্রা আদর্শ কলেজ প্রাঙ্গণে মরহুম সাইদুর রহমান সাইদের স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলে ইউনিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক(এমডি) মোহা. নূর আলী এ মন্তব্য করেন।
চুড়াইন তারিণী বামা উচ্চ বিদ্যালয় ও খাহ্রা আদর্শ প্রাক্তন ছাত্র সমিতির পক্ষ হতে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। মরহুম সাইদুর রহমান চুড়াইন তারিণী বামা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র সমিতির সভাপতি ও খাহ্রা আদর্শ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ছিলেন।
প্রাক্তন ছাত্র সমিতির প্রধান উপদেষ্টা নূর আলী বলেন, সাইদুর একজন মেধাবী ছাত্র ছিলো। তার ব্যক্তি জীবন বলতে পারবো না কিন্তু তার কর্মজীবন ছিলো অনেক ভালো। সে সব সময় আমার সাথে যোগাযোগ রাখতো। এলাকায় কখন কি প্রয়োজন বা কার কি লাগবে তা অনেক কিছুই আমি সাইদুরের কাছ থেকে শুনেছি।
উপদেষ্টা বলেন, আমি যখন ২য় শ্রেণিতে পড়ি তখন আমার বাবা মারা যায়। সাইদুর জানতো আমি কত কষ্ট করে আজকে এই অবস্থানে এসেছি। তাই তিনি আমার সাফল্যের কথা জানার চেষ্টা করতো এবং আমাকে ফলো করত। আমিও তাকে অনেক হেল্প করেছি।
নূর আলী কলেজের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, তোমরা কখনো তোমার মা, বাবা, ভাই, বোন, স্বামী, স্ত্রীর উপর ভরসা করবে না। সর্বদা আল্লাহর নাম স্মরণ করে নিজের পায়ে দাড়াতে চেষ্টা করবে। মনে রাখবা সবাই তোমাকে ছেড়ে গেলেও তোমার চেষ্টা এবং সাফল্য তোমাকে ছাড়বে না। আর সব চেয়ে মানুষের সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করবে। এতে তোমাদের সামনে চলার পথ সুগম হবে। তোমরা কখনো কারো কাছে কোন কিছু ধার করবা। নিজের ফাউন্ডেশন তৈরি করা চেষ্টা কররা।
বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর আলী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র। তাই আমি বিশ্বাস করি, ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয় না হলে হয়তো বঙ্গবন্ধুর জন্ম হত না। জন্ম হতো না একটি বাংলাদেশ। ঠিক তেমনে চুড়াইন তারিণী বামা স্কুল না হলে হয়তো আজ আমি নূর আলী হতাম না। কারণ এই স্কুল থেকেই আমারা ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযোদ্ধ এবং নির্বাচন করেছি। তাই অবশ্যই এই স্কুল এবং এলাকার জন্য আমার এবং আমাদের অনেক কিছু করার আছে। কারণ এখান থেকেই বহু গুনিদের জন্ম হয়েছে।
শিক্ষাথীদের উদ্দেশ্য নূর আলী আরও বলেন, তোমরা হয়তো অনেকেই জানো না, চুড়াইনে বিভিন্ন রাস্তা ঘাটের যে উন্নয়ন দেখতে পাচ্ছো তা এই কলেজ এবং তারিনী বামা বিদ্যালয়ে পড়া ছাত্রদের মাধ্যমেই হয়েছে। শুধু তাই নয় আমি তৎকালীন পানি মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জুকে দিয়ে এই তুলশিখালি ব্রিজটি করিয়েছি। সেই সাথে রাজ্জাক ভাইকে দিয়ে কাশিয়াখালি বাঁধ তৈরি করে দিয়েছে। শুধু তাই নয় ইছামতি নদীতে ৪টি ব্রিজ, ২ঘন্টার মধ্যে ২২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও ভুক্ত করে দিয়েছি আমি। এসকল তথ্য অনেকেরই অজানা। তাই তোমাদের প্রতি আমার আহ্বান রইলো তোমরাও আমার মত এই এলাকার উন্নয়ন কর্ম কান্ডে অংশ নিয়ে নিজের জীবনকে সার্থক করবে।
অনুষ্ঠানে খাহ্রা আদর্শ কলেজের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মোহা. নূর আলীর সভাপতিত্বে বিভিন্ন পর্যয়ের নেতৃবৃন্দ, কলেজের শিক্ষক-শিক্ষিকা, শিক্ষার্থীসহ আরও অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।
