শ্রীনগরে বসতবাড়ির আঙিনায় লেবু চাষে সফল কৃষক

শ্রীনগর ( মুন্সিগঞ্জ) প্রতিনিধি:  শ্রীনগরে বসতবাড়ির আঙিনায় দেশী জাতের কাগজী লেবু চাষে সফল হচ্ছেন কৃষক আল-আমিন। বাড়ির আঙিনায় বাগান জুড়ে রয়েছে থোকায় থোকায় লেবুর সমাহার। পিতার রেখে যাওয়া গত ৩০ বছরের পুরোনো কাগজী লেবু বাগানটি এখনও ধরে রেখেছেন পুত্র আল-আমিন।
এখন বাগানটিতে প্রচুর পরিমানে লেবুর ফলন হচ্ছে। উপজেলার তন্তর এলাকার পানিয়া গ্রামের আল-আমিন (৪৫) অত্র এলাকায় এখন সফল লেবু চাষী হিসেবে সুপরিচিত।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, তন্তর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের পানিয়া গ্রামের মরহুম মোহাম্মদ আলীর পুত্র আল-আমিনের আলাদা আলাদা ভাবে বাড়ির আঙিনায় প্রায় ২০ থেকে ২৫ শতাংশ জায়গার মধ্যে দুইটি লেবু বাগান রয়েছে। মাটির সমতল থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ ফুট উচ্চতায় লেবু বাগানে বাঁশের মাচা করা হয়েছে। বাগানের নিরাপত্তাপ জন্য চারপাশ জুড়ে জাল দিয়ে মোড়ানো হয়েছে।
বাগানে মাচার লেবু গাছের ডাল-পালা ও পাতার ফাঁকে ফাঁকে প্রচুর কাগজী লেবু দেখা গেছে।
এ সময় লক্ষ্য করা যায়, একটি বাগান থেকে লেবু তুলছেন আল-আমিন।
আল-আমিনের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তার বাবা ৩০ বছর আগে একটি কাগজী লেবুর বাগান রেখে মারা যান। তিনি বিদেশ থেকে এসে লেবু বাগানটি পরিচর্যা করার পাশাপাশি ৩ বছরের মাথায় আরেকটি লেবু বাগান গড়ে তুলেন।
প্রতি সপ্তাহে ১ থেকে ২ বার বাগান থেকে লেবু সংগ্রহ করেন তিনি। এসব লেবু পাইকারীভাবে বিক্রি করছেন পার্শ্ববর্তী লৌহজং উপজেলার ঐতিহ্যবাহী নওপাড়া হাটে।
এ চাষে সরকারিভাবে কোনো প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেননি তিনি। তবে সরকারিভাবে এ চাষে সাহায্য সহযোগিতা পেলে বড় পরিসরে কাগজী লেবুর চাষাবাদ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্বাদে-ঘ্রাণে জনপ্রিয় বহুগুনের অধিকারী কাগজি লেবুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে সর্বখানে।
বাগানের উৎপাদিত প্রতি পোন (৮০ পিস) লেবু পাইকারীভাবে বাজারে বিক্রি করা হচ্ছে সর্বনিম্ন ৩০০ টাকা দরে।
প্রতি হালি লেবু খুচরা বাজারে বিক্রি হচ্ছে ১৫ থেকে ২০ টাকা করে। লেবু চাষে বছরে আল-আমিনের আয় হচ্ছে প্রায় লাখ টাকা।
এ ছাড়াও আল-আমিন বসতবাড়ির আনাচে কানাচে লাউ, কুমড়া, ডাটাসহ বিভিন্ন আগাম সবজির চাষাবাদ করছেন। এসব আগাম সবজি ও লেবু বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *