মো.রকিবুল হাসান বিশ্বাস,সিংগাইর(মানিকগঞ্জ)থেকে: বর্ষায় নৌকা,বৃষ্টিতে ছাতা আর শীতে একটি গরম কাপড় যেন সবারই কাম্য। শীতের আগমন শহরের মানুষের কাছে উপলব্ধি না হলেও গ্রামের মানুষের কাছে ঠিকই উপলব্ধি হচ্ছে। আর এতে গরম কাপড়ের চাহিদাও বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের সিংগাইর হাটে খোলা আকাশের নিচে জমে উঠেছে শীতবস্ত্রের বেচাকেনা। এখানে অল্প দামে মিলছে নতুন ও পুরানো গরম কাপড়। ১০ টাকা থেকে শুরু করে এক হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হচ্ছে হাটের দোকানগুলোতে। তাই কম দামে ভালো কাপড় কেনার জন্য ভিড় জমাচ্ছেন মধ্য ও নিম্ন আয়ের মানুষ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মানিকগঞ্জের সিংগাইর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে খোলা আকাশের নিচে সপ্তাহের প্রতি বৃহস্পতি ও রবিবার বসে এই হাট। হাটটি একসময় ধান ও পাট বিক্রির জন্য খ্যাতি থাকলেও বর্তমানে পুরোনো কাপড়ের জন্য বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরাই এই হাটের প্রধান ক্রেতা। সিংগাইর পৌর এলাকার আজিমপুর গ্রামের পঞ্চাশোর্ধ মেহেরজান জানান, এখন শীত পড়া শুরু করেছে। নাতি নাতনীদের জন্য সোয়েটার কিনার জন্য আইছি। এখান থেকে আগেও কিনছি। কম দামে ভালো কাপড় পাওয়া যায়। একটা মোটা গেঞ্জি কিনেছি ৬০ টাকা দিয়ে আর একটা সোয়েটার নিয়েছি ১৬০ টাকায়। ঘোনাপাড়ার মজিবর রহমান বলেন, আমার বাচ্চার বয়স দেড় বছর। শীত পড়া শুরু করেছে। ছোট বাচ্চার জন্য গেঞ্জি ও প্যান্ট কিনতে এসেছি। ৫ টা গার্মেন্টসের প্যান্ট কিনেছি ১০০ টাকায়। ১০টা গেঞ্জি নিয়েছি ২৫০ টাকায়। এগুলো মার্কেট থেকে কিনতে গেলে ৫০০ টাকার ওপরে লাগতো। সাশ্রয়ের জন্য এখান থেকে কিনলাম। আমার মতো অনেকেই এখান থেকে শীতের কাপড় কিনছেন। বিক্রেতা রিয়াাজুল জানান, সিংগাইর হাট সপ্তাহে দুই দিন বৃহস্পতি ও রবিবার বসে। আমি বিগত ৪ বছর ধরে এখানে কাপড়ের ব্যবসা করি। আমার মতো দুই থেকে আড়াই শতাধিক দোকানি রয়েছেন হাটে।

এই হাটে সোয়েটার, জ্যাকেট, ট্র্যাকসুট, বিভিন্ন ধরনের গরম জামা, মোজা, টুপি, বাচ্চাদের কাপড়, চাদর, কম্বলসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড় পাওয়া যায়। এখানে একেক দোকানদার একেক প্রকার পণ্য বিক্রি করেন। প্রতিহাটে বর্তমানে গরম কাপড় বিক্রি হয় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার। বিক্রেতা ফরিদ হোসেন জানান, আমাদের এই হাটে প্রচুর লোকজন আসেন। বিশেষ করে স্বল্প আয়ের মানুষের আস্থার জায়গা এটি। যারা নতুন কাপড় কিনতে পারেন না তারাই এখানে আসেন। এ ছাড়া মধ্য আয়ের মানুষের সংখ্যাও কম নয়। এখানে খুব অল্প দামে জ্যাকেট, সোয়েটার পাওয়া যায়। অনেকে এখান থেকে ৪-৫টা করে কিনে নিয়ে যান। বিশেষ করে মহিলা কাস্টমার অনেক বেশি। মেয়েদের গরম কাপড়ের ভালো আইটেম পাওয়া যায় ৫০ থেকে ২০০ টাকায়। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই হাটে বিভিন্ন ডিজাইনের কাপড়ের সমারোহ বাড়বে। সিংগাইর বাজার ব্যবসায়ী সমিতি সভাপতি হাজী শহিদুল ইসলাম জানান, আমাদের এই হাটটি অনেক পুরোনো। সপ্তাহে দুই দিন স্কুলের মাঠে এখানে হাট বসে। হাটে বর্তমানে কাপড়ের বিক্রেতারাই বেশি। খোলা আকাশের নিচে বসা এসব দোকানে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য একমাত্র ভরসা আমাদের এই পুরোনো কাপড়ের হাট।
