শরীরের গ্রোথের জন্য প্রোটিন কতটা দরকার

প্রোটিন হলো শরীরের বিল্ডিং ব্লক। একদিকে যেমন শরীরের গ্রোথের জন্য পর্যাপ্ত প্রোটিন প্রয়োজন, তেমনই নানা টিস্যু ও সেল মেরামত করতেও এটির প্রয়োজন। কম বয়সে যেমন প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা সর্বোচ্চ থাকে, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এর চাহিদা খানিকটা কমে। শরীরের প্রতি কেজি ওজনের অনুপাতে ০.৬-১.৩ কেজি প্রোটিনের চাহিদা থাকে। এই চাহিদার তারতম্য হয় বয়স আর জীবনযাপনের ধরনের ওপর ভিত্তি করে।

কম বয়সী কেউ বা যিনি খুব অ্যাথলেট, তাদের প্রোটিনের দরকার বেশি। আবার শরীরে এনজাইম প্রডাকশন সুষ্ঠুভাবে হওয়ার জন্য বা এস্ট্রোজেন ফাংশন ঠিকমতো হওয়ার জন্যও প্রোটিন দরকার।
সব ক্ষেত্রে যদি প্রোটিনের চাহিদা না মেটে তখন কী হবে?

কম বয়সী ছেলেমেয়েদের সরু কবজি, রোগা চেহারা অনেক ক্ষেত্রে প্রোটিন-ডেফিশিয়েন্সির লক্ষণ। আবার যাদের প্রোটিন গ্রহণে সামর্থ্য আছে তাদেরও যে প্রোটিনের অভাব হয় না তেমনটা নয়! অতিরিক্ত জাঙ্কফুড খেলে বা কার্বোহাইড্রেটযুক্ত খাবার বেশি খেলে প্রোটিনের ঘাটতি হতেই পারে। খাবারের মধ্যে যদি রিফাইন্ড কার্ব আর ফ্যাটের আধিক্য থাকে, তাহলে প্রোটিনের পরিমাণ কমবে। দিনের পর দিন সকালের নাশতায় মাখন, পাউরুটি, রুটি–আলুর তরকারি খেলে কার্বোহাইড্রেটের চাহিদা হয়তো মিটবে, খাবারে প্রোটিন কই!

খিদে পেলে হয়তো দিনের মাঝে খানিকটা মুড়ি খেয়ে নিলেন। তার বদলে যদি একটা ডিম সেদ্ধ বা এক গ্লাস দুধ খান তাহলে প্রোটিনের অভাব হবে না। যারা নিরামিষ খান, তারা প্লান্ট প্রোটিনের ওপরেই বেশি নির্ভর করেন। তাদেরও প্রোটিনের ঘাটতি হতে পারে। শুধু প্রোটিনের পরিমাণ নয়, প্রোটিনের গুণের সঙ্গেও আপস করতে হয়।
অতিরিক্ত প্রোটিনও ভালো নয়, যাদের কিডনির অসুখ আছে, তাদের পক্ষে অতিরিক্ত প্রোটিন সমস্যা ডেকে আনতে পারে। আপনার শরীর, ওজন, বয়স ও জীবনযাপনের ধরন অনুযায়ী যতটুকু প্রোটিন দরকার তার চেয়ে অতিরিক্ত যদি খান তাহলে কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ইউরিক এসিডের মাত্রাও বাড়তে পারে। যারা হেভি ওয়ার্কআউট করছেন, তাদের উচিত ডায়েটিশিয়ানের সঙ্গে পরামর্শ করে প্রোটিন ইনটেক (সাপ্লিমেন্টও) বুঝে নেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *