স্টাফ রিপোর্টার : করোনা ঝুকিতে রয়েছে এখন কেরানীগঞ্জ। ৭ দিনেই এখানকার করোনা রোগী শনাক্তের বৃদ্ধির সংখ্যাই তা জানান দিচ্ছে। আজ শুক্রবার (১০এপ্রিল) পর্যন্ত জিনজিরা, কালিন্দী, শুভাঢ্যা, কোন্ডা ও শাক্তা ইউনিয়নে ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মাত্র দু’জন নারী রোগী রয়েছেন। তবে অবাক করার বিষয় হচ্ছে এরা কেউ প্রবাসী বা বিদেশ ফেরত কোন নিকট বা দুর আত্বীয় স্বজনের সংস্পর্শে আসেনি। তবে সামাজিক সংক্রমণ থেকে এদের শরীরে করোনাভাইরাস সংক্রমিত হতে পারে বলে চিকিৎসকগণ জানিয়েছেন।
যদি মানুষ এখনো বাড়িতে না থকে এবং তারা সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে চলে তাহলে করোনভাইরাস সামাজিকভাবে সংক্রমণ ঘটিয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি করবে বলে অভিজ্ঞ মহল মনে করছেন। প্রতিদিনই নতুন নতুন করোনা রোগী শনাক্ত হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষ এখনো সচেতন হচ্ছে না। বিশেষ করে কালিগঞ্জ, আগানগর, খেজুরবাগ, পারগেন্ডারিয়া, গোলামবাজার, চুনকুটিয়া, জিনজিরা এলাকায় রাস্তাঘাট ও বাজারে সব সময় মানুষের উপচেপড়া ভীর লেগেই থাকে।
এসব এলাকায় বাজারগুলোতে মোটেও সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে না। তাছাড়া এসব এলাকায় ভাসমান মানুষসহ নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের হাজার হাজার মানুষের বসবাস। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যাই বেশি। এছাড়া এসব মানুষের অধিকাংশই আবার রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় কাজ করত। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বারবার বলা হলেও তাদের কথায় কোন গুরুত্ব দিচ্ছে না এসব অসচেতন লোকজন। মানুষ ঠেলাঠেলি করেই এসব বাজারে ঢুকে কেনাকাটা করছে।
ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জিনজিরা, আগানগর, কালিন্দী, শাক্তা ও শুভাঢ্যা এই পাঁচটি ইউনিয়নকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। লকডাউন বাস্তবায়নে কাজ করছে উপজেলা প্রশাসনের তিনটি ভ্রাম্যমাণ আদালতের টিম। এছাড়া মাঠে রয়েছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। তারপরেও মানুষকে ঘরে ফেরাতে ও সামাজিক দুরুত্ব বজায় রাখতে হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
খেজুরবাগ এলাকার মো. ফারুক হোসেন জানান, তাদের এলাকায় রাস্তা এবং বাজারগুলোতে উপচেপড়া মানুষের ভীড় থাকে। মহল্লার ওলিগলিতেও মানুষ জটলা বেঁধে চলাফেরা করছে। তিনি আইনের মাধ্যমে এসব এলাকার রাস্তায় ও বাজারে অহেতুক ভীড় জমানো লোকজনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদিকে শাক্তা ইউনিয়নে আজ নতুন ২ করোনা রোগী শনাক্ত হওয়ায় ওই এলাকার মানুষের মাঝে আতংক ছড়িয়ে পড়েছে।
কুলচর এলাকার মো. আখের হোসেন আখি জানান, আটি বাজারে সব সময় মানুষের ভীড় লেগেই আছে। মানুষ প্রশাসনের তোয়াক্কা না করে এবং সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখেই যারযার খেয়াল খুশিমত চলাফেরা করছে। আটি বাজার থেকে রাজধানীর মোহাম্মদপুর সিএনজিযোগে মানুষ অহরহ চলাফেরা করছে। তিনি এই বাজারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেল সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসান সোহেল জানান, তারা প্রতিনিয়তই বিভিন্ন বাজার, রাস্তা-ঘাটে সেনাবাহিী ও পুলিশ বাহিনীকে সাথে নিয়ে জনসচেতনতামুল প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মানুষ যদি বাড়িতে না থকে এবং সামাজিক দুরুত্ব বজায় না রেখে চলাফেরা করে তাহলে কেরানীগঞ্জবাসী ভয়াবহ বিপদের সন্মুখিন হবে। তিনি কেরানীগঞ্জবাসীর প্রতি আহবান জানিয়ে আরও জানান, এখনো সময় আছে আপনারা বাড়িতে থাকেন, সামাজিক দুরুত্ব বজায় রেখে চলেন।
