নিজস্ব প্রতিবেদক: দেশ স্বাধীন হওয়ার নায়ক, দূরদর্শী উদ্যোক্তা, যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্বরণসভা দোয়া-মিলাদ ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বাদ জুম্মা তার জন্মস্থান ঢাকার নবাবগঞ্জের মধ্য বিলপল্লী বাইতুল আমান জামে মসজিদে এ দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়। এসময় মরহুমের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা, মিলাদ ও দোয়া এবং হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় দেশের শিল্প খাতের অগ্রদূত, সফল স্বপ্নসারথি এই আপসহীন উদ্যোক্তাকে। আজ সশরীরে বেঁচে নেই। কিন্তু রেখে গেছেন তার অমর সৃষ্টি বিশাল কর্মযজ্ঞ যমুনা গ্রুপের ৪২টি প্রতিষ্ঠান। আর এসব প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনন্তকাল মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। যার সওয়াব নুরুল ইসলামের আমলনামায় যোগ হবে বলে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানে নুরুল ইসলামের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। কবর জিয়ারত ও দোয়া মোনাজাত করেন মধ্য বিলপল্লী বাইতুল আমান জামে মসজিদের ইমাম হাফেজ মাওলানা ফেরদাউস। স্থানীয় ছাত্রনেতা ইখতিয়ার উদ্দিন নাসিফের সভাপতিত্বে এবং দৈনিক যুগান্তরের স্টার্ফ রিপোর্টার কাজী সোহেলের সহযোগিতায় দোয়া ও মোনাজাতে উপস্থিত ছিলেন- সিরাজুল ইসলাম (ইলাহী), ইমান ফকির, খোকন মাদবর, ইসাখ ফকির, ফজল মুন্সি, জাহাঙ্গীর সিকদার প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নুরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। পরের দিন ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় বনানীর কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আপসহীন এই যোদ্ধা। মৃত্যুর এক মাস আগে ১৪ জুন নুরুল ইসলামের করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। ওইদিনই তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। করোনায় তার কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বিশিষ্ট এই শিল্পোদ্যোক্তার চিকিৎসায় এভারকেয়ারে ১০ সদস্যবিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। এর বাইরে চীনের ৪ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং সিঙ্গাপুরের মাউন্ড এলিজাবেথ হাসপাতালের ২ জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক টেলিকনফারেন্সের মাধ্যমে পরামর্শ দিয়েছেন। তারপরও সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় তিনি না-ফেরার দেশে পাড়ি জমান।
