ফেইসবুকে সাংবাদিকের ‘মানহানি’, আইসিটি মামলায় গ্রেপ্তার ২

ময়মনসিংহের এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ফেইসবুকে মানহানিকর বক্তব্য প্রচারের মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী জানান।

এরা হলেন ফুলপুর উপজেলার কাইচাপুর গ্রামের আব্দুল মোতালেব (৫৫) ও তারাকান্দার বালকী (নয়াপাড়া) গ্রামের তাওহিদ হাসান (৩০)।

মোহনা টেলিভিশন ও অনলাইন নিউজ পোর্টাল রাইজিং বিডির ময়মনসিংহ প্রতিনিধি মাহমুদুল হাসান মিলনের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

মামলার বাদী মাহমুদুল হাসান মিলন বলেন, গত বৃহস্পতিবার পেশাগত কাজে তিনিসহ কয়েকজন সাংবাদিক ময়মনসিংহের ফুলপুর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়নের কাইচাপুর গ্রামে গিয়ে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল ‘অবৈধভাবে’ মজুদ করে রাখার তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে তারা সংবাদ করেন, যা কয়েকটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

“এ নিয়ে গ্রেপ্তারকৃত দুইজন তাদের ফেইসবুকে আমাকে জড়িয়ে মানহানিকর স্ট্যাটাস দেন; যার ফলে আমি পারিবারিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হই।”

ফুলপুর থানার ওসি ইমারত হোসেন গাজী বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতিতে আইনশৃঙ্খলার অবনতির উদ্দেশ্যে গ্রেপ্তারকৃতরা সাংবাদিক মিলনসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হয়ে গত বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে অপপ্রচার চালান।

“শনিবার রাতে সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে দুই জনের নামে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে মামলা করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা অপরাধ স্বীকার করেছেন।”

রোববার (১৯ এপ্রিল) গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

ময়মনসিংহ টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ মো. মূসা বলেন, “কাজ করতে গিয়ে সাংবাদিক মিলনের মতো অনেকেই হয়রানির শিকার হচ্ছেন। আমরা এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাই।” 

ময়মনসিংহ বিভাগীয় নিউজ চ্যানেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হারুন অর রশিদ বলেন, “যারা ফেইসবুকে মানহানিকর স্ট্যাটাস দিয়ে সাংবাদিক মিলনকে সামাজিকভাবে হেয় করেছে তাদের গ্রেপ্তার করায় সাংবাদিক সমাজে স্বস্তি ফিরেছে। আশা করছি এর যথাযথ বিচারও পাব আমরা।”

ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অমিত রায় বলেন, “পেশাগত দায়িত্বপালন করতে গিয়ে সাংবাদিকরা নানাভাবে নির্যাতিত হচ্ছেন। সাংবাদিক মিলনও এর বাইরে নন। তবে মামলা নিয়ে দ্রুত আসামিদের গ্রেপ্তার করায় পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই।”

ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার আহমার উজ্জামান বলেন, “আইন সবার জন্য সমান। কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে কারও মানহানি করার অধিকার রাখে না। তাই অপরাধ যে-ই কেউ করুক না কেন শাস্তি হবেই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *