নববাংলা আন্তর্জাতিক ডেস্ক: একসময় কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস গড়ে তুলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ঝড় তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পর এখন সেই দলই সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে বলে আলোচনা চলছে। বিধানসভা নির্বাচনে ভরাডুবি, দলীয় বিদ্রোহ, গণপদত্যাগ এবং বিজেপির উত্থানের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে- মমতা কি তার দলকে ধরে রাখতে পারবেন, নাকি তৃণমূল কংগ্রেস ধীরে ধীরে তার হাতছাড়া হয়ে যাবে?
সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে বলছে, কোনও রাজনৈতিক দলের মৃত্যুপরোয়ানা এত সহজে লিখে ফেলা যায় না। রাজনৈতিক দল অনেকটা ‘রোজ অব জেরিকো’ নামের মরুভূমির উদ্ভিদের মতো। বছরের পর বছর প্রতিকূল পরিবেশে শুকনো বলের মতো টিকে থাকে, আবার সামান্য আর্দ্রতা পেলেই নতুন করে ফুল ফোটায়। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতীক ‘জোড়া ঘাসফুল’ কি দলটির ইতিহাসের সবচেয়ে বড় অস্তিত্ব সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবে?
এই প্রশ্নই এখন পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ঘুরছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কি আগামী পাঁচ বছর টিকে থেকে ২০২৯ সালের লোকসভা এবং ২০৩১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির মোকাবিলা করতে পারবে? পূর্ব ভারতের এই রাজ্যে বিজেপি এখন এক শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে তৃণমূলের ভেতরে ভাঙনের লক্ষণ স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, তৃণমূলের কিছু বিদ্রোহী নেতা সম্প্রতি বৈঠক করেছেন। তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার ভাতিজা ও দলের জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক অবস্থানের বিরোধিতা করছেন। আর এই অভিযোগেই সোমবার তৃণমূল দুই বিধায়ক সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও বিধায়ক কুণাল ঘোষ বিদ্রোহে প্ররোচিত হওয়া বিধায়কদের উদ্দেশে ‘জোড় হাতে’ অনুরোধ জানিয়েছেন। অন্যদিকে সোমবার ফেসবুক লাইভে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেও স্বীকার করেন, তৃণমূলে ভাঙন ধরানোর একটি ষড়যন্ত্র চলছে।
