নবাবগঞ্জ (ঢাকা) প্রতিনিধি: ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র শবে বরাতের রাতে হ্যা ভোটের ক্যাম্পেইনার আমির হোসেনকে প্রকাশ্যে হত্যার উদ্দেশ্যে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করা হয়েছে। মঙ্গলবার (৩রা ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টা ৩০ মিনিটে উপজেলার জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় যুবদল নেতা মো. কামালকে প্রধান আসামি করে ১০ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। আহত আমির হোসেন জামায়াতে ইসলামীর কর্মী। ঘটনার প্রতিবাদে ও আসামিদের দ্রুততম সময় গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ইনকিলাব মঞ্চ ও নবাবগঞ্জ জামায়েতে ইসলামী। এ বিষয়ে ইনক্লাব মঞ্চের নেতা মাসুদুর রহমান আদনান সাংবাদিকদের জানান, আমরা বেশ কয়েকদিন আসন্ন নির্বাচনে নবাবগঞ্জের বিভিন্ন ইউনিয়নে গণভোটে হ্যা ভোটের পক্ষে ক্যাম্পেইন করে আসছি। আমির হোসেন ভাই তার বন্ধুদেরকে নিয়ে আমাদের কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। এ কারণে যুবদল নেতা কামাল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা মজনু আহত আমির হোসেন ভাইকে হুমকি দেয়। মঙ্গলবার রাতে ওই দুই নেতার নেতৃত্বে আমির ভাইয়ের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। আমরা দ্রুত আসামীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানাই।
মামলার বাদী হিমু আক্তার (২২) জানান, গতকাল ৩রা ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে নবাবগঞ্জ থানাধীন জয়কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের বামুয়াহাটিস্থ বাঁশের মেলায় তার স্বামী মো. আমির হোসেন (২৩)-এর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলায় নেতৃত্ব দেয় মো. কামাল (৪৫)। তার সঙ্গে মো. আতিক (৩৫), মো. মজনু (৫০), মো. সাকিব (২২), মো. সাকিল (২১), মো. রাব্বি (২২), মো. জন (২০), মো. বায়েজিত (২১), মো. পারভেজ (১৯), মো. ইব্রাহীম (১৯)সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫/৬ জন অংশ নেয়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা লাঠিসোঁটা, রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। একপর্যায়ে মো. কামাল ধারালো দা দিয়ে আমির হোসেনের মাথার পেছনে কোপ দিলে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। অন্য আসামিরা ছুরি ও রড দিয়ে তার পিঠ, পা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়। পরে আহত আমির হোসেনকে উদ্ধার করে নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় ৫ ফেব্রুয়ারি নবাবগঞ্জ থানায় দণ্ডবিধির ১৫৬/৩২৩/৩২৪/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
