মো.আককাস আলী, নওগাঁ জলো প্রতনিধি : মহামারী করোনা ভাইরাসে নওগাঁয় নতুন করে ৭ স্বাস্থ্যকর্মীসহ আরও ৪২ জনের শরীরে এই রোগটি শনাক্ত হয়েছে। নতুন রোগীদের নিয়ে জেলায় করোনা শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে ৭৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়েছেন ৫১৪ জন। আর করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ১১ জন। জেলার ৯টি উপজেলায় নতুন শনাক্ত ৪২ জনের মধ্যে সদরের ছয়জন, সাপাহারের ৫ স্বাস্থ্যকর্মীসহ বারোজন, পোরশার ১ স্বাস্থ্যকর্মীসহ ১০ জন, নিয়ামতপুরের একই পরিবারের তিনজনসহ ৪ জন, পত্নীতলার এক স্বাস্থ্যকর্মীসহ ২ জন, বদলগাছীর ২ জন, মান্দার ২ জন, রাণীনগরের ১ জন, ধামইরহাটের ১ জন ও আত্রাইয়ের ১ জন রোগী রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে নওগাঁর সিভিল সার্জন অফিসার ডা. আখতারুজ্জামান আলাল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আজ দুপুরে এক ই-মেইলে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার ল্যাব থেকে ২৯৪টি নমুনা পরীক্ষার ফলাফল আসে। নমুনা পরীক্ষার মধ্যে ৪২ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
জেলায় এক দিনে মোট সাতজন স্বাস্থ্যকর্মীর মধ্যে-সাপাহার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন মেডিকেল ল্যাব টেকনোলজিস্ট, একজন এক্স-রে টেকনোলজিস্ট, দুজন কমিউনিটি হেলথ প্রোভাইডার ও একজন সেবিকা রয়েছেন। এছাড়া পোরশা ও পত্নীতলা উপজেলায় একজন করে সহকারী কমিউনিটি স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।
জেলায় গত ২৩ এপ্রিল রাণীনগর উপজেলায় এক স্বাস্থ্যকর্মী সর্বপ্রথম এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
অপরদিকে নওগাঁর নিয়ামতপুর উপজেলায় করোনা উপসর্গ নিয়ে অবসরপ্রাপ্ত এক স্কুলশিক্ষক (৬৫) মারা গেছেন। তিনি নিয়ামতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
জ্বর, সর্দি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যু হয় তাঁর। নিতহ ওই শিক্ষক নিয়ামতপুর উপজেলার মুড়িহারী গ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন জানান, গতকাল বুধবার বিকেলে জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্ট নিয়ে ওই শিক্ষক হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর শারীরিক অবস্থা ক্রমশ খারাপ হওয়ায় তাঁকে আইসোলেশন ইউনিটে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
আজ সকালে তাঁর বুকব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এই হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় দুপুর ১২টার দিকে তাঁকে ছাড়পত্র দিয়ে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়। দুপুরে তাঁর স্বজনেরা হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি।
তিনি আরও জানান, ওই শিক্ষকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। নিহতের স্বজনদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে। এছাড়া ওই শিক্ষকের পরিবারসহ তাঁর সংস্পর্শে আসা সবাইকে ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।
জেলায় এ পর্যন্ত করোনা উপসর্গ নিয়ে ২৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। তবে, তাঁদের মধ্যে নমুনা পরীক্ষায় পাঁচজনের শরীরে রোগটি শনাক্ত হয়।
