মে.আককাস আলী, নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি : নওগাঁর সাপাহার থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকীদাতা কতিথ এক নারী সন্ত্রাসী তৈবাতুন নেসা মিনিকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। ১৮ জুন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মোড়ের বাসা হতে ওই ভুমি দস্যু নারী সন্ত্রাসী মিনিকে পুলিশ গ্রেফতার করে।ঘটনার বিবরনে জানা গেছে, সাপাহার উপজেলার মিরাপাড়া দীঘির হাট এলাকার মৃত মহসিন আলীর ছেলে জৈনক মোকাদ্দেস আলী মিরা পাড়া মৌজায় প্রায় ৩ একর জমি ক্রয় করে দীর্ঘ ৪৩বছর ধরে ভোগদখল করে আসছিল। ঐ জমি নিয়ে প্রতি পক্ষের সাথে বিবাদ চলছিলো। বিবাদের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সম্প্রতি পার্শ্ববর্তী আদলপুর গ্রামের মৃত. আব্দুল খালেক এর ছেলে রিয়াজ উদ্দীন আমম্মেদ উক্ত জমির মধ্যে হতে ৪১শতাংশ জমি নামমাত্র টাকায় প্রতিপক্ষের নিকট থেকে ক্রয় করে জবর দখলের পায়তারা শুরু করেন।
এক পর্যায়ে ওই ভূমিদস্যু মিরা পাড়া গ্রামের দস্যুরাণী হিসেবে খ্যাত আকলিমা খাতুন (৫২) ওরফে (গলাকাটি) ও নিশ্চিন্তপুর মোড়ে বসবাসরত নারী সন্ত্রাসী খ্যাত তৈবাতুন নেসা (৫০) মিনিকে ভাড়াটিয়া হিসেবে নিযুক্ত করে ওই জমি জবর দখলের জোর চেষ্টা চালাতে থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় ১৮ জুন বৃস্পতিবার ওই ভুমি দস্যু রিয়াজ তার অন্যান্য সহযোগী ও নারী সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে তাদের সহযোগিতায় ওই জমির উপর একটি টিনের বেড়া দিয়ে অস্থায়ী ঘর তৈরী করে সেখানে অবস্থান করে।
এসময় জমির প্রকৃত মালিক মোকাদ্দেস আলী ও তার লোকজন সেখানে গিয়ে তাদের বাধা দিলে উভয় পক্ষের মধ্যে চরম সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষের সংবাদ পেয়ে সাপাহার থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করতে জমি জবরদখলকারী রিয়াজ (৫৫)ও তার ছেলে আসাদুল (২৪ কে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। এ দিকে দখলদার পিতা পুত্রকে থানায় ধরে নিয়ে আসায় নারী সন্ত্রাসী মিনি থানার সরকারি মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সাপাহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হাইকে হুমকি প্রদান করে বলেন, ভাই-আপনার থানা পুলিশ আমার রিয়াজ ভাই ও তার ছেলেকে ধরে নিয়ে গেলো, ওদেরকে আপনি চালান দিবেন না। ওদেরকে চালান দিলে কিন্তু আমি থানায় আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিবো’’।
এ কথা শোনার পর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাই পুলিশের একটি টিম পাঠিয়ে হুমকিদাতা কতিথ নারী সন্ত্রাসী তৈয়বাতুন নেছা মিনি কে আটক করে থানায় নিয়ে নিয়ে আসেন। সৃষ্ট ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে ও অবৈধ্য ভুমি দখলদার সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য মাননীয় খাদ্য মন্ত্রী বাবু সাধন চন্দ্র মজুদার এমপি নির্দেশ দিলে নওগাঁ জেলার সুযোগ্য জেলা পুলিশ সুপার মহোদয় সাহেব এর দিকনির্দেশনায় সাপাহার সার্কেল বিনয় কুমার ও ওসি আব্দুল হাই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে হুমকী প্রদর্শনকারী ও দখলদার বাহিনীর অন্যতম সদস্য নারী সন্ত্রাসী তৈবাতুন নেসা মিনিকে গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠায়।
এসময় দখলদার বাহিনীর অন্যতম নারী সদস্য কতিথ গলাকাটা আকলিমা পুলিশের উপস্থিততি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। উল্লেখিত ঘটনায় অজ্ঞাতনামা সহ ২১জনকে আসামি করে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে সাপাহার থানার ওসি প্রতিবেদককে বলেন, পিতা ও ছেলেকে থানা থেকে ছেড়ে না দেওয়া হলে আগুন জ্বালিয়ে থানা পুড়িয়ে দিবে বলে থানার সরকারি মোবাইল ফোনে কলদিয়ে ঐ নারী আমাকেই হুমকি দেন। ঘটনায় মামলা দায়ের পূর্বক জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে।
